মিলাদ হোসেন অপু, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৫ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ১০০ মিটার জমিসহ ২০টি কাঁচাঘর ও যমুনা অয়েল কোম্পানির একাংশসহ বেশ কিছু স্থাপনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে ভৈরব বাজার ও মেঘনার ওপর নির্মিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু, হাবিল আব্দুল হালিম রেলওয়ে সেতু ও জিল্লুর রহমান রেলসেতু। ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকিতে পড়েছে কয়েক হাজার বস্তা সারসহ বিএডিসি গোডাউন, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। দ্রুত ভাঙনরোধ না করা গেলে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে ভৈরব বাজার।
জানা যায়, হাওরের উজানের পানি মেঘনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুর হয়ে সমুদ্রে মিলিত হয়। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভৈরব মেঘনা নদীর পানি বেড়েছে, তবে তা স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে।
কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীসহ বেশ কয়েকটি জেলার বন্যার পানি ভৈরবের মেঘনা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে পানির স্রোত প্রবল হয়েছে। ভৈরবে মেঘনার পানির প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে গত রবিবার মধ্যরাত থেকে ভাঙন দেখা দেয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ভাঙন শুরু হয়। এ সময় অনেকেই ঘুমে থাকায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক এক করে কাঁচাঘর, যমুনা অয়েলের প্রতিরোধ দেয়াল, ইবাদত খানা ও তেলের পাইপলাইন নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভোর হওয়ার পর অনেকে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। ভাঙনে ৫০ মিটার বাইপাস সড়ক নদীর গর্ভে চলে যায়। অনেকেই অভিযোগ করে, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই এই ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এর আগে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে ভৈরব রেলওয়ের ৫০ একর জায়গাসহ শতাধিক ঘরবাড়ি, অফিস ও বাজারের ৩০টি ঘরসহ ১০ একর জায়গা প্রমত্তা মেঘনার স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে নদীগর্ভে বিলীন হয়। মেঘনাপাড় রক্ষায় সরকার বাঁধ দিলেও ভাঙন ঠেকাতে পারছে না।
এ বিষয়ে আলেয়া বেগম, পিয়ারা বেগম, রোজিনা ও মজনু মিয়া জানান, রাতে আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ যমুনা অয়েল কোম্পানির দারোয়ান আমাদের ঘুম থেকে তোলে। আমরা কোনো রকম পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে পারলেও সবকিছু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছি। এখন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। এই এলাকায় ৬০টি পরিবার রয়েছে। এদের মধ্যে ২০টি পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে গেছে। নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আমরা আজ পথে বসেছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কিশোরগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আতিকুল গণি জানান, এখানে খাদ্যগুদাম, সার কারখানা ও যমুনা অয়েল রক্ষা করতে আমাদের সার্ভে কাজ অব্যাহত রয়েছে। নদী ক্রস সেকশনের কাজ শেষে বলা যাবে নদীর গভীরতা কতটুকু। প্রাথমিকভাবে ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ বালুভর্তি করে ডাম্পিং করে দেওয়া হবে। ভাঙনের বিষয়ে হাইড্রোগ্রাফ করার পর যথাযথ কারণ জানা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রেদোয়ান আহম্মেদ রাফি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে খাদ্যগুদাম রয়েছে। দুটি বিএডিসি গোডাউনে ৯ হাজার বস্তা সার রয়েছে। যা দিয়ে হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গার প্রয়োজন মেটানো হয়। নদীর পাড়ের ভাঙন বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদস্যরা ও বিএডিসি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। বাড়িঘরের ক্ষতি হলেও কারও জানমালের ক্ষতি হয়নি।