সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:২১ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:৫৭ পিএম
পোশাক কারখানার সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবা ফটো
সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অস্থিরতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে অন্তত ২২টি কারখানা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আরও অন্তত আট পোশাক কারখানায় সকালে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিল্পপুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম।
জানা যায়, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিকদের দাবির মুখে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কারখানাগুলোয় বেড়েছে শ্রমিক অস্থিরতা। এরই ধারাবাহিকতায় শিল্প সুরক্ষায় আশুলিয়ার অন্তত ২২টি পোশাক কারখানা শ্রম আইন ২০০৬ সালের ১৩ (ক) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধারায় কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা বন্ধ সময়ের কোনো বেতন পাবেন না।
এদিকে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাইপাল-আবদুল্লাহ্পুর সড়কের বাইপাইল থেকে জিরাবো, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক, বিশমাইল জিরাবো সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনন্ত, মেডলার, শারমিন গ্রুপ, ডেকো, এস টুয়েনটি ওয়ান, মণ্ডল নিটওয়্যার লিমিটেড, ম্যাঙ্গো টেক্স, এআর জিন্স, এনভয়, স্টাইলিং গ্রুপ, ভিনটেক্স, ইয়াগী বাংলাদেশ, ক্রস ওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অরোনিমা, ডেবনিয়ার, দি রোজ, জেনারেশন নেক্সট, সিনসিন, ডিসান সোয়েটার, সিগমা ফ্যাশনসহ আরও কিছু পোশাক কারখানা শ্রম আইন ২০২৬ সালের ১৩(ক) ধারা অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে আরও আটটি কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সকাল ১০টা পর্যন্ত নিউএইজ, আল মুসলিম, নাসা সুপার কমপ্লায়েন্স, নাসা এ জে সুপার, নাসা বেসিক কমপ্লেক্স ও জন রন সোয়েটারের উৎপাদন চলছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানা বন্ধের নোটিসে লেখা রয়েছে, দ্যাটস ইট স্পোর্টসওয়্যার লিমিটেড, অ্যাপারেলস গ্যালারি লিমিটেড, রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড, এক্সপ্রেস ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড, আটিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড, নেক্সট কালেকশন লিমিটেডের সব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিককে সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বর্তমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ১৩ (১) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ১১ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করল। পরে আঞ্চলিক পরিবেশ নিরাপদ হলে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নোটিসের মাধ্যমে কারখানা খোলার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে। কারখানায় নিরাপত্তা বিভাগ এ নোটিসের আওতামুক্ত থাকবে।
পোশাক শ্রমিকরা জানায়, সকালে কারখানায় প্রবেশ করে কার্ড পাঞ্চ করে বাসায় চলে যেত শ্রমিকরা। কিন্তু আজ বেশিরভাগ ফ্যাক্টরি ১৩(ক) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকরা কারখানা বন্ধের নোটিস দেখে বাসায় ফিরে গেছে। অনেকে আবার অনেক জায়গায় অবস্থান করছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
শিল্পপুলিশ জানায়, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির মুখে মালিকপক্ষ আলোচনা করলেও কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে যেতে পারেনি। ফলে আজ সেসব কারখানা ১৩(ক) ধারায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছ কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শক্ত অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, জেলা পুলিশ ও শিল্পপুলিশ।
শিল্পপুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ২২টি কারখানা ১৩(ক) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আরও আটটি কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। কিছু জায়গায় আমরা কর্মবিরতির কথা শুনেছি। সেখানে আলোচনা করে কাজে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এখনও ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে যৌথবাহিনী।