জনদুর্ভোগ
গাজী মাসুদ রানা, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:৪৪ পিএম
মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুড়া বাজার সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত সেতুটির গত চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রবা ফটো
পিরোজপুরের
মঠবাড়িয়ায় বাইশকুড়া বাজার সংলগ্ন খালে সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই
বছর আগে। অথচ এখনও কাজ সম্পন্ন হয়নি। এটি বাইশকুড়া ও তেঁতুলতলার সংযোগ সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ
এই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে ভোগান্তির
শিকার হতে হচ্ছে। প্রায় ৬ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলা স্থানীয়
সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৩৭ মিটার সেতুটি নির্মাণে ৩ কোটি ৬১ লাখ
৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এলজিইডির অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কাজ পায়
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিএন অ্যান্ড এএসআই লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির কাজ
শুরু হয় ২০২০ সালে। শেষ করার কথা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। গত দুই বছর ধরে ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে,
সেতুটি দৃশ্যমানই হয়নি। কাজ আংশিক শেষ হয়ে পিলারের কতকগুলো রড দাঁড়িয়ে আছে।
নেই কাজের কোনো সাইনবোর্ডও। বিকল্প চলাচলের জন্য যে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে সেটিও
ঝুঁকিপূর্ণ। নির্মাণস্থলে কোনো শ্রমিককেও পাওয়া যায়নি। চোখে পড়েনি কোনো
কর্মযজ্ঞ।
কথা হয় মো. শামিম
খান নামে স্থানীয় একজনের সঙ্গে। তিনি জানান, পুরোনো ব্রিজটি ভাঙা হয় ২০২০ সালের
মার্চ মাসে। এখন যে অবস্থা তাতে স্থানীয় মানুষ খুব দুর্ভোগে আছে। এ রাস্তা দিয়ে
প্রতিদিন অনেক গাড়ি ও মানুষ চলাচল করে। বিকল্প যে সাঁকোটি তৈরি করেছে সেটিও খুব ঝুঁকিপূর্ণ
।এখানে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বাইশকুড়া এলাকার
বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই বছর যাবৎ ব্রিজটি এভাবে পড়ে আছে। বারবার বলার
পরও কোনো লাভে হচ্ছে না। ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ করার দাবি করছি।
বাইশকুড়া এলাকার রিকশাচালক
ইউসুফ আলী বলেন, ব্রিজ না হওয়ার কারণে আমরা চাইলেও দূরে ভাড়া নিয়ে যেতে পারি
না। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছি আমরা।
কাজটির ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠানের মালিক মঠবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিউদ্দিন
আহম্মেদ ফেরদৌস।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। বন্ধ রয়েছে তার মোবাইল
ফোন। এ জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা এলজিইডি
প্রকৌশলী জিয়ারুল ইসলাম বলেন, এই ব্রিজটি ২০২০ সালে শুরু হয়। ২০২১ সালের
ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জায়গা জটিলতা ও বামনার রোডের দিকের
অ্যাপ্রোচের জায়গা নিয়ে জটিলতা থাকার কারণে কাজটি শুরু করতে দেরি হয়। আমি ২০২২
সালের সেপ্টেম্বরে জয়েন করি। তারপর পাইলিংয়ের কাজ শেষ করে ঠিকাদারের কিছু বকেয়া
বিল পাঠাই। সেখান থেকে তিনি কিছু বিল পেয়েছেন। সম্পূর্ণ বিল পাননি।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আর্থিক সংকটে আছেন। বিল পেলে কাজটি দ্রুত শেষ করবেন, এমনটা জানিয়েছেন। বাইপাসের ক্ষেত্রে যদি কোনো অসুবিধা থাকে আমাদেরকে জানালে সমাধান করে দেব। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করতে।