× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে রামনা-ফুলঝুড়ি সড়ক

দেলোয়ার হোসাইন আশিক, বামনা (বরগুনা)

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:৩৮ পিএম

বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে বরগুনার বামনা উপজেলার দক্ষিণ বামনা এলাকার বামনা-ফুলঝুড়ি সড়ক। প্রবা ফটো

বিষখালী নদীর ভাঙনে বিলীনের পথে বরগুনার বামনা উপজেলার দক্ষিণ বামনা এলাকার বামনা-ফুলঝুড়ি সড়ক। প্রবা ফটো

বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীনের পথে বরগুনার বামনা উপজেলার দক্ষিণ রামনা এলাকার রামনা-ফুলঝুড়ি সড়ক। ভাঙন ঠেকাতে মাঝে মাঝে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ দায়সারাভাবে জিওব্যাগ ফেললেও ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

সম্প্রতি বিষখালী নদীর পানির স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় বামনা উপজেলার নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙনের ফলে রামনা-ফুলঝুড়ি সড়কের দুই-তৃতীয়াংশ এরই মধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন রোধে এখনই স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যেকোনো সময় জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, নদীর পানিতে তলিয়ে যাবে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রাম।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে দক্ষিণ রামনা এলাকা ভাঙনকবলিত। বিষখালী নদীর ভয়াল গ্রাসে কয়েক হাজার মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকেই বর্তমানে বাঁধের পাশে সরকারি জমিতে বসবাস করছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও স্থায়ী ব্লক নির্মাণের কোনো পদক্ষেপ তারা নিচ্ছেন না। এমনকি প্রতি বছর বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দায়সারা জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনকবলিত মানুষের মুখ বন্ধ রাখেন। ব্যাগ ফেলে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার ভাঙন শুরু হয়। নদীর এই অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। নিঃস্ব হচ্ছে নদী তীরবর্তী মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করেছেন এলাকাবাসী।

দক্ষিণ রামনা এলাকার বাসিন্দা মো. নাসির হোসেন বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি এই এলাকার ভাঙনে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। প্রতি বছরই স্থায়ী ব্লক নির্মাণের জন্য মানববন্ধন করে আসছি। তবে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। এখনই ব্লক স্থাপন করা না হলে বরগুনা জেলা সদরের সঙ্গে সহজ পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর আমরা নদী তীরবাসী অচিরেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাব।

রামনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাকাবিল্লাহ ফরাজি বলেন, বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে রাস্তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। নদীর ভাঙন থেকে এই জনপদ রক্ষায় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত এগিয়ে আসা প্রয়োজন। এভাবে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের নিজের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে।

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, আমি কয়েক দফায় বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগ করেছি। তবে তারা এখনও ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যেহেতু এখন পুনরায় আবার ভাঙন শুরু হয়েছে, তাই আবারও তাদের বিষয়টি জানাব।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, আমরা কয়েক মাস পূর্বে দক্ষিণ রামনা ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ দিয়ে ডাম্পিং শুরু করেছিলাম। যে ট্রলার দিয়ে কাজটি শুরু করেছিলাম, সেটি সেখানে ডুবে যাওয়ায় কাজটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। দ্রুত পুনরায় ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থায়ী ব্লক স্থাপনের বিষয়টি সময় সাপেক্ষ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা