উদ্যোগ
সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:৩২ পিএম
বন্যা
ও বৃষ্টির পানির চাপে গত ২৬ আগস্ট ধসে পড়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছোট ফেনী
নদীতে অবস্থিত মুছাপুর স্লুইসগেট (রেগুলেটর)। রেগুলেটর না থাকায় প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা
পর পর দুইবার জোয়ার আসে। এ সময় পানি ঢুকে পড়ে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর, চরহাজারী, চরপার্বতী
ও ফেনীর সোনাগাজীর চরমজলিশপুর, চরদরবেশ ও চরসাহাবিকারি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামে। ফলে
প্রতিদিন ভাঙছে এসব ইউনিয়নের অনেক এলাকা।
নদীর
ভাঙন থেকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পত্তি বাঁচাতে ফেনীর সোনাগাজীতে স্বেচ্ছাশ্রমে
ছয়শ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে এলাকাবাসী। উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের
উত্তর চরদরবেশ গ্রামের ইতালি মার্কেট সংলগ্ন তালতলিতে গত শনিবার থেকে স্থানীয়রা এ কাজ
শুরু করে।
গতকাল
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ফেনী নদীর একাংশে খুঁটি, জিওব্যাগ, বাঁশ ও বেড়া দিয়ে
স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণে কাজ করছে স্থানীয়রা। ছয়শ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁধ নির্মাণে
ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। এলাকার প্রবাসীসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে অনুদান নিয়ে
ইতোমধ্যে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করে কাজ শুরু হয়েছে। যে কাজে শ্রম দিচ্ছেন স্থানীয়
তিন শতাধিক যুবক।
স্থানীয়রা
জানায়, মুছাপুর রেগুলেটর ভেঙে যাওয়ায় উত্তর চরদরবেশ গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারকে রক্ষা
করতে এ স্থানে একটি টেকসই বাঁধ প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বন্যা ও পানির চাপে এলাকার শতাধিক
পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণের পাশাপাশি এ স্থানে
দ্রুত বাঁধ নির্মাণ করা না হলে বাকি ঘরবাড়ি অচিরেই নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে
তারা।
চরদরবেশ
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ স্থানে বাঁধটি নির্মাণ করা হলে
এলাকাটি ভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পাবে। দ্রুত মছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণসহ একটি টেকসই
বাঁধ নির্মাণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
জিসাসের
কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সেলিম রেজা বলেন, নদীর ভাঙন থেকে কয়েক হাজার পরিবারকে রক্ষা করতে
হলে সোনাগাজী ও কোম্পানীগঞ্জবাসীর একটাই দাবি, অতিদ্রুত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করা।
তা না হলে, নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে যাবে এ এলাকা।
চরদরবেশ
ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হোসেন আহমদ বলেন, ভাঙন রোধে রেগুলেটর নির্মাণের বিকল্প নেই।
একই সঙ্গে নদীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ডাকাতিয়া খালের মুখে মাটি ভরাট হয়ে যাওয়ার পানি অপসারণে
বিঘ্ন হচ্ছে। খালটি পরিকল্পিতভাবে খনন করা হলে ভাঙন রোধে সহায়ক হবে।
স্থানীয়
ইতালি মার্কেট সমাজের সভাপতি মাহবুবুল হক বলেন, নদী এখান থেকে ১ কিলোমিটার দক্ষিণে
ছিল। বর্তমানে নদী ভাঙার তীব্রতায় এ অঞ্চলের মানুষ রাত হলে তাদের বাড়িঘরে থাকে না।
যদি এখানে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয় তাহলে নদীটি অন্যদিকে প্রবাহিত হবে। বাড়িঘর ও ফসলিজমি
রক্ষা পাবে।
গত
রবিবার স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাউবোর
স্টেশন অফিসার। এ সময় এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
কামরুল হাসান বলেন, মুছাপুর রেগুলেটর নদীগর্ভে বিলীনের পর শুধু চরদরবেশ ইউনিয়ন নয়,
পুরো সোনাগাজী উপজেলার চারপাশে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসন ও পাউবো
কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অব্যাহত নদীভাঙনের ফলে সোনাগাজী উপজেলার জনগণের ঘরবাড়ি
ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এবং নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সীমানায় ছোট ফেনী নদীর ওপর ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩ ভোল্টের রেগুলেটরটি নির্মাণ করা হয়। সোনাগাজী ও নোয়াখালী এলাকার ১ দশমিক ৩০ লাখ হেক্টর জমির ফসলকে লবণাক্ততা থেকে সুরক্ষা এবং জোয়ারের পানি থেকে এসব এলাকা সুরক্ষার জন্য জনগণের দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুছাপুর ২৩ দরজা বিশিষ্ট রেগুলেটরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণকাজ শেষে ১৫ বছর না যেতেই মুছাপুর রেগুলেটরটি ভেঙে পড়ে।