× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএনপি নেতা দখল করলেন সুনীল স্মৃতি পাঠাগার

মাদারীপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:২৫ পিএম

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় সুনীল স্মৃতি পাঠাগার।  প্রবা ফটো

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় সুনীল স্মৃতি পাঠাগার। প্রবা ফটো

শনিবার ( ৭ সেপ্টেম্বর)  দুপুরবেলার ঘটনা। হঠাৎ করেই দেখা গেল, ‘সুনীল স্মৃতি পাঠাগারের’ দিকে ধেয়ে আসছেন এক রাজনৈতিক নেতা ও তার সহযোগীরা। পাঠাগারে এসেই তারা সেটির টিনশেড ঘরের তালা ভেঙে ফেললেন। ভাঙচুর করতে লাগলেন ভেতরের আসবাবপত্র, দেয়ালে টাঙানো ছবি আর আলমারি। ছুড়ে ফেলে দিতে লাগলেন বইপত্র।

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার কাজীবাকাই ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়ায় ‘সুনীল স্মৃতি পাঠাগার’টি গড়ে উঠেছে পাঠকনন্দিত বিখ্যাত কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে তার পৈতৃক ভিটাতে। ডাসার ও কালকিনি উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সূত্রমতে, পূর্ব মাইজপাড়া মৌজায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৭ একর ১৫ শতাংশ পৈতৃক জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে ২ একর ৯৭ শতাংশ সরকারের খাসজমি হিসেবে রেকর্ড করা। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল হাওলাদার দাবি করছেন, সুনীলের জায়গাজমি তার। তাই তিনি পাঠাগারটি দখল করে সেখানকার সব জিনিসপত্র বের করে সেখানে ওএমএসের এক ট্রাক চাল মজুদ করেন। দরজায়ও লাগিয়ে দেন নতুন তালা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বাড়ির সামনে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল; সেটিও ভেঙে সরিয়ে ফেলা হয়।

অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতার নাম সোহেল হাওলাদার। তিনি বিএনপির ডাসার উপজেলা কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার কাজীবাকাই এলাকায়।

বর্তমানে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদ শূন্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কালকিনির ইউএনও উত্তম কুমার দাশ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিএনপি নেতা সোহেল হাওলাদার লেখকের ঘর দখল করে ওএমএসের ডিলারের চাল রেখেছিলেন। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই তিনি ওই চাল সরিয়ে ফেলেছেন। ওই দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই পৈতৃক ভিটা দেখভালের দায়িত্বে আছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকেই সোহেল হাওলাদার লোকজন নিয়ে লেখকের জমি তার নিজের বলে দাবি করেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তার সমালোচনা করলে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালান তিনি। তাই ভয়ে কেউ আর কথা বলছেন না। এই সুযোগে সোহেল তার লোকজন নিয়ে এখানকার টিনশেড ঘরের তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। ওই ঘরে ওএমএসের চালও রাখেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাই জানে।’

এ বিষয়ে জানতে সোহেল হাওলাদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল ধরেননি। মেসেজ পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশীদ খান বলেন, ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটার পাঠাগারের তালা ভেঙে সেটিকে দখলে নেওয়ার খবর আমরা জানতে পেরেছি। যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা লেখকের বাড়িটি দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’

 

সুনীলের পৈতৃক ভিটা দখলের নিন্দা

এদিকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটা দখল করার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জেলার সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাহিত্যপ্রেমীরা। তাদের দাবি, দখলদারদের শাস্তি নিশ্চিত করে লেখকের ভিটা দখলমুক্ত করে তা সংরক্ষণ ও সংস্কার করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কথাসাহিত্যিক ও গপ্পোর সম্পাদক মাসুদ সুমন বলেন, ‘প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও আমাদের প্রিয় লেখকের শেষ স্মৃতিচিহ্ন তার এই পৈতৃক ভিটা। তাই আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দখলদারের বিচার নিশ্চিত করে বেদখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানাই।’

উদ্ভাস আবৃত্তি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমান বলেন, ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের মাদারীপুরের শুধু গর্ব নন, পুরো দেশের গর্ব। সরকারিভাবে লেখকের পৈতৃক ভিটায় সুনীল সাহিত্য গবেষণাকেন্দ্রসহ একটি জাদুঘর করার কথা। অথচ সরকার পরিবর্তনের পর সেটি দখল হয়ে যাওয়া খুবই অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা।’

প্রসঙ্গত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মাদারীপুর মহকুমার রাজৈরের আমগ্রামের মামাবাড়িতে জন্ম নেন। তার পৈতৃক বাড়ি তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমার কালকিনির পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে। ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতায় তার মৃত্যু ঘটে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা