লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:২৫ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৫২ পিএম
সাবেক যুবলীগ নেতা একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু। ছবি : সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরে পৃথক দুই হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সাবেক যুবলীগ নেতা একেএম সালাহ উদ্দিন টিপুর লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়েনি। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
টিপু লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। তিনি আলোচিত লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র প্রয়াত আবু তাহেরের ছেলে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ৩ সেপ্টেম্বর। বিভিন্ন সময় জেলার ৩৩ লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা পড়েছে। কিন্তু শেষ দিন রাত ১২টা পর্যন্ত টিপু অস্ত্র জমা দেননি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জানায়, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসন ব্যক্তি-মালিকানার ৩৫ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করে। এসব লাইসেন্সের বিপরীতে ৩৪ আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়। আলাউদ্দিন দিদার নামের এক ব্যক্তি লাইসেন্স নিলেও তিনি অস্ত্র কেনেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকাসহ জেলার বিভিন্ন থানায় ২৭ জনের নামে লাইসেন্স করা ৩৩ আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৫ পিস্তল, ১৬ শটগান, ১ বন্দুক ও ১ রাইফেল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে গত ৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুরে হামলা-সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই দিন প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে যুবলীগ নেতা টিপুসহ তার লোকজন ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। ছাত্র-জনতার ওপর টিপুর গুলিবর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই দিন চার শিক্ষার্থী গুলিতে নিহত হন। আরও আটজন পিটুনি ও সংঘর্ষে মারা যান। গুলিবিদ্ধ ও হামলায় শতাধিক ছাত্র-জনতা আহত হয়।
১৪ আগস্ট রাতে গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী আল আসাদ আফনান পাটওয়ারীর মা নাছিমা আক্তার ও নিহত সাব্বির হোসেন রাসেলের বাবা আমির হোসেন বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন সদর মডেল থানায়। দুটি মামলাতেই টিপুকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া ৪ আগস্ট পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ও কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশের দায়েরকৃত ওই মামলায় টিপুকে প্রধান আসামি করা হয়। ছাত্র-জনতার দেওয়া আগুনে টিপুর দুটি বাসভবন পুড়ে গেছে। ওই দিনই টিপু পালিয়ে যান।
লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইসেন্সের বিপরীতে কেনা একটি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি। ওই অস্ত্র এখন অবৈধ হয়ে গেছে। এর লাইসেন্সধারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে মাঠে নেমেছে যৌথ বাহিনী। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।’