নড়াইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:২০ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৩২ পিএম
নিহত শিমুল গাজী। ছবি : সংগৃহীত
নড়াইলে স্বামীকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে মাটিতে পুঁতে রাখা শিমুল গাজীর (৪০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের কাইজদাহ গ্রামে। এ ঘটনায় গৃহবধূ পলি বেগম ও প্রতিবেশী আজাদ শেখকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শিমুল গাজী যশোরের অভয়নগরের শ্রীধরপুর গ্রামের মৃত আবদুল্লাহ গাজীর ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন।
লাশ উদ্ধারের বিষয় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিমুলের স্ত্রী পলি বেগম ও প্রতিবেশী আজাদ শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, শিমুল গাজী দ্বিতীয় স্ত্রী পলিকে নিয়ে শেখহাটি ইউনিয়নের কাইজদাহ গ্রামে বসবাস করতেন। ২ সেপ্টেম্বর শিমুল নিখোঁজ হন। শিমুলের ছোট ভাই ইমরুল ইসলাম নিখোঁজের বিষয় জানার পর অভয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়িতে নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ জানান।
শেখহাটি পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দেওয়ার দুই দিন পর সোমবার ভাবি পলি বেগমের সঙ্গে কথা বলতে যান ইমরুল ইসলাম। তখন ঘরের ভেতরে এক কোণায় নতুন মাটি দেখতে পেয়ে তার সন্দেহ হয়। ইমরুল ইসলাম বিষয়টি ফাঁড়িতে এসে জানালে পুলিশ ঘরের মেঝে খুঁড়ে শিমুলের লাশ উদ্ধার করে।
শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শিমুল গাজীকে হত্যা করে নিজের ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে চাপা দিয়ে রাখেন পলি বেগম। তিনি স্বামীকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। হত্যার কাজে প্রতিবেশী আজাদ শেখ (৪০) সহায়তা করেছে।’
নিহত শিমুলের ভাই ইমরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাই শিমুলের বন্ধু ঘের ব্যবসায়ী আজাদ শেখের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল ভাবি পলির।’ তিনি ভাই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।