নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:০৪ পিএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:০২ পিএম
আশিক আব্দুল্লাহ ও জসীম উদ্দিন। প্রবা ফটো
বরিশালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেননি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশিক আব্দুল্লাহ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ ৫ জন। এসব অস্ত্র উদ্ধারে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। পুলিশ জানায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি যারা অস্ত্র জমা দেননি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম জানান, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বরিশালে ১৯৭টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বেসামরিক জনগণকে দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে লাইসেন্সগুলো স্থগিত করা হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা জানানো হয় সবাইকে। তবে জেলার ১০ উপজেলার অস্ত্র জমা পড়লেও মহানগর এলাকার ৮টি অস্ত্র জমা পড়েনি। এ বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে সেনাবাহিনীর পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া আলোচিত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানসহ দুজন অস্ত্র জমা দিয়েছে বরিশালের বাইরে। তবে এখনও জমা পড়েনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছোট ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশিক আব্দুল্লাহ, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিনসহ মোট ৫ জনের আগ্নেয়াস্ত্র।
সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের জেলা সদস্য লিংকন বাইন বলেন, বিগত সরকারের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে দলীয় নেতা ও সমর্থকদের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করার অভিযোগ ছিল। যারা এখনও আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেয়নি তাদের অধিকাংশ শেখ হাসিনার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ৫ আগস্টের পর থেকে অনেকেই পালিয়ে আছেন। গত ১৫ বছরের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। তাই দ্রুত অস্ত্রগুলো উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাফিছুর রহমান বলেন, যে ৫টি অস্ত্র এখনও জমা পড়েনি সেগুলোর বিষয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী ও তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অভিযান চালানো হচ্ছে অস্ত্র উদ্ধারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি যারা অস্ত্র জমা দেননি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে গত ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেগুলো জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক অস্ত্রই জমা দেওয়া হয়নি। যারা অস্ত্র জমা দেননি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।