সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৫:১৬ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০০:০৯ এএম
মাফিয়া খাতুন মিতু
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে
শিক্ষা সনদে বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুরের নাম জন্মদাতা বাবা হিসেবে ব্যবহার করে কোটায়
সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাফিয়া খাতুন মিতু নামের এক নারীর বিরুদ্ধে।
উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের মইশাবাদুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা
গেছে, সহকারী শিক্ষক মাফিয়া খাতুন মিতু ভাটারা ইউনিয়নের ধোপাদহ জুলারখুপি সাপলেঞ্জা
গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবদুর রহমানের ছোট ছেলে খায়রুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী।
মিতু ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি মইশাবাদুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক
পদে যোগদান করেন। আবদুর রহমানের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা
গেছে, খায়রুল ইসলাম খোকন ২০১০ সালে জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার সিদুলী ইউনিয়নের রায়ের
ছড়া গ্রামের মো. হাসান আলী মাহালি সুতারের মেয়ে মাফিয়া খাতুন মিতুকে পারিবারিকভাবে
বিয়ে করেন। ওই সময় মাফিয়া খাতুন মিতু নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধা কোটায়
চাকরি নেওয়ার প্রত্যাশায় মিতু নবম শ্রেণিতে পড়ালেখার সময় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট
(এসএসসি) পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করাতে গিয়ে তার বাবার নাম মো. হাসান আলীর পরিবর্তে
শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের নাম এবং মা মালেকা বেগমের পরিবর্তে শাশুড়ি
শরিফা রহমানের নাম ব্যবহার করেন। রায়েরছড়া সরদার বাড়ী মডেল একাডেমি থেকে ২০১২ সালে
এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর ভাটারা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চমাধ্যমিক
সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাস করেন মিতু।
মিতুর বিরুদ্ধে আরও
অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের মা-বাবার নামের পরিবর্তে বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুর-শাশুড়ির
নাম বসিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করিয়েছেন।
মিতুর জাতীয় পরিচয়পত্র
ও বিভিন্ন শিক্ষা সনদ পর্যালোচনা করে শ্বশুর-শাশুড়ির নাম ব্যবহারের সত্যতা মেলেছে।
সনদে তিনি জন্মদাতা বাবা মো. হাসান আলীর পরিবর্তে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের নাম
ও মা মালেকা বেগমের পরিবর্তে শাশুড়ি শরিফা রহমানের নাম ব্যবহার করেছেন। এই বিষয় প্রকাশ্যে
আসার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ
করা হলে মাফিয়া আক্তার মিতু বলেন, ‘আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
তার স্বামী খায়রুল ইসলাম খোকনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত
আব্দুর রহমানের আরেক ছেলে খোরশেদ আলম বলেন, ‘মাফিয়া খাতুন মিতু আমার বোন নন। তিনি আমার ছোট
ভাই খায়রুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী। মিতু যে কাজ করেছেন তা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা
সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘শ্বশুরকে বাপ বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়া জালিয়াতি।
এটা জঘন্য অপরাধ। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
মাফিয়া খাতুন মিতুর
বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘আমি তদন্ত করে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণাদি পেশ করব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
(ইউএনও) শারমিন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে
নির্দেশ দিয়েছি তদন্ত করে দেখার জন্য। সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।’