খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:০৭ পিএম
খুলনার দাকোপের ঢাকী নদীর বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। পাউবোর সহযোগিতায় স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি মেরামত করা হয়। প্রবা ফটো
খুলনার দাকোপ উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভেঙে যাওয়া বাঁধ পুনর্নিমাণ করল গ্রামবাসী। গত শনিবার থেকে শুরু করে রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হওয়ার দুই দিন পর দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছে গ্রামবাসী। এর আগে গত শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকী নদীর বাঁধ ভেঙে উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোনা গ্রাম তলিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, পাউবোর ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতায় উপজেলার খোনা গ্রামের মোল্লাবাড়ির সামনে গত শুক্রবার সকাল থেকে বাঁধের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে গ্রামবাসীর সহায়তায় মেরামতের কাজ শুরু হয়। তবে দুপুরের জোয়ারে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে হু হু করে পানি ঢুকে পড়ে। এতে ভেসে যায় আমন ফসল ও মাছ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবোর গাফিলতির কারণে বাঁধ ভেঙে গেছে।
পানখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘শুক্রবার সকাল থেকে ধস দেখে ওই বাঁধ রক্ষার্থে কাজ চলছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় পুরো খোনা গ্রাম প্লাবিত হয়। ভেসে যায় প্রায় ১ হাজার বিঘা জমির আমন ফসল, পুকুর ও ঘেরের মাছ। অনেকের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। ভাটায় বাঁধ আটকানো না গেলে রাতের জোয়ারে আবারও পানি ঢুকবে এবং ভাঙা অংশ বড় হয়ে যাবে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। শনিবার সকাল থেকে চেষ্টা করার পরেও পানি আটকানো সম্ভব হয়নি। পরে বিকালে ভাটার সময় এলাকাবাসী যৌথভাবে কাজ করায় বাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’
খোনা গ্রামের বাসিন্দা মো. বাচ্চু ফকির, আকরাম শেখ, মো. হাসান শেখসহ কয়েকজন বলেন, কয়েক দিন ধরে ঢাকী নদীতে ধসে যাওয়া খোনা গ্রামের বেড়িবাঁধের কাজ চলছে। কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের পানিতে গত শুক্রবার দুপুরে মোল্লাবাড়ির সামনে থেকে ভেঙে গিয়ে পুরো গ্রাম প্লাবিত হয়। দুই দিন পর এখন বাঁধা হয়েছে, পানিও কমতে শুরু করেছে।
পাউবো খুলনার উপসহকারী প্রকৌশলী গোপাল কুমার দত্ত জনান, নদীতে ভাটা নামলে বাঁশ ও জিও টিউবের মাধ্যমে পাইলিং করে মাটি দিয়ে বাঁধ আটকানোর কাজ করা হয়। রবিবার ভোরের পরবর্তী জোয়ারের আগে বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়েছে।
পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, উচ্চ জোয়ারের কারণে ঢাকী নদীর পাশে খোনা গ্রামের উপকূল রক্ষার বেড়িবাঁধের প্রায় ৩০ মিটার মতো ভেঙে ওই এলাকা প্লাবিত হয়। তবে জোয়ার-ভাটার কারণে ধীরে ধীরে ভাঙা অংশ বড় হচ্ছিল। গত সোমবার হঠাৎ ধস নামলে বাঁধ রক্ষার্থে তাৎক্ষণিক মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে মাটি ও জিও ব্যাগ ফেলানো হয়। তবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাঁধটি রক্ষা করা যায়নি। পরে ভাটার সময় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় পুরোদমে কাজ করে বাঁধের কাজ শেষ হয়। এখন বাঁধ মোটামুটি আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় আছে।