মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:২৪ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে। রোগীর স্বজনরা বলেন, শ্রীমঙ্গল শহরতলির মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা পরিবহন শ্রমিক মো. সুজনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বিউটিকে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীনের কাছে নেওয়া হয়।
রোগীকে তিনি আল্ট্রাসনোগ্রামসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে দুপুরের মধ্যে ফল নিয়ে হাসপাতালে আসার জন্য বলেন। রোগীর স্বামী বেলা আড়াইটার দিকে পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে হাসপাতালে গেলে সময় শেষ হয়ে গেছে অজুহাতে রোকসানা পারভীন রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
মো. সুজন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিউটিকে শহরের ডাকঘর সড়কের শ্রীমঙ্গল পলি ক্লিনিকে ভর্তি করি। ভর্তি করার পর দেখি সিজার করার জন্য ডা. রোকসানা ও ডা. সাজ্জাদ আসেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে আমার স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয়। পৌনে ৭টার দিকে একটি কন্যা সন্তান প্রসব হয়। এর আধঘণ্টা পর চিকিৎসকরা অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে যেতে বলেন। তারা জানান, রোগীর অবস্থা ভালো নয়, অনেক চেষ্টা করা হয়েছে, এখন সিলেটে নিয়ে যান। তাদের কথামতো দ্রুত সিলেটের রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, রোগীকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিয়ে এসেছেন। পরে রাত ৩টার দিকে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। ডা. রোকসানা ও ডা. সাজ্জাদের ভুল চিকিৎসায় বা ভুল সিজারে আমার স্ত্রী অকালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই।
অভিযুক্ত চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। আরেক চিকিৎসক রোকসানা পারভীন তার স্ত্রী। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা ডা. রোকসানা পারভীনের অনিয়ম ও কয়েক বছরে বেশ কিছু রোগীর মৃত্যুর জন্য দায়ী করে নানা মন্তব্য করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রবিবার সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী ও রোকসানা পারভীন দুজনই কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।
শ্রীমঙ্গল পলি ক্লিনিকের পরিচালক দেবব্রত দত্ত হাবুল বলেন, ‘আমাদের ক্লিনিকে সিজারের পর অবস্থা খারাপ হওয়ায় বিউটি নামের ওই রোগীকে সিলেট পাঠানো হয়। সেখানে তিনি মারা গেছেন। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধানে চেষ্টা করা হবে।
ডা. রোকসানা পারভীন বলেন, বেলা পৌনে ৩টার দিকে রিপোর্ট দেখে স্বজনদের বলি রোগীর অবস্থা ভালো না। আপনারা মৌলভীবাজার বা অন্য যেকোনো হাসপাতালে নিয়ে যান। বিকাল সাড়ে ৫টায় পলি ক্লিনিক থেকে ফোন পেয়ে সেখানে গিয়ে ওই রোগী দেখতে পাই। পরে স্বজনদের অনুরোধে সফলভাবে অপারেশন করি, সুস্থ অবস্থায় নবজাতকেরও জন্ম হয়। এরপর রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে সিলেট নিয়ে যেতে বলি। সেখানে রোগী মারা গেছেন। সিজারের পর আমরা অনেক চেষ্টা করেছি রোগীকে বাঁচাতে। কিন্তু আমাদের কারও কিছুই করার ছিল না।’
ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা রোগীকে মৌলভীবাজার নিয়ে যেতে বলি। স্বজনদের বারবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে রোগীকে বাঁচাতে চেষ্টা করি। বাঁচাতে গিয়ে ফেঁসে গেছি। এখানে রোগীও ভুক্তভোগী, আমরাও ভুক্তভোগী।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু তালেব বলেন, ‘ওই রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কারও ত্রুটি প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। তারা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন।’
সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন মোর্শেদ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। যদি তাতে চিকিৎসকের কোনো ভুল থেকে থাকে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।