বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ
সালেহীন সোয়াদ, মধুখালী (ফরিদপুর)
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:১৪ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:২২ পিএম
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের বসতভিটা। প্রবা ফটো
রউফনগরে অযত্নে
আর অবহেলায় ধ্বংস হতে চলেছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের বসতভিটা। চুরি হয়ে যাচ্ছে
ঘরের দরজা-জানালা। অন্যদিকে স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামের একমাত্র রাস্তাটিও
পাকা করা হয়নি। ফলে শুধু গ্রামবাসীই নয়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের চরম ভোগান্তিতে
পড়তে হচ্ছে।
ফরিদপুরের মধুখালী
উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ
মুন্সী আব্দুর রউফ। নিজ জন্মভূমিতে একটিমাত্র ঘর তার স্মৃতিচিহ্ন হয়ে রয়েছে।
মধুমতী তীরের
সালামতপুর গ্রামটি এখন রউফনগর হিসেবে পরিচিত। এ গ্রামের সূর্যসন্তান মুন্সী আব্দুর
রউফ মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে জীবন দেন। দেশবাসীর কাছে মুন্সী
আব্দুর রউফ একটি গর্ব ও ভালোবাসার নাম। এ গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠের নামে রয়েছে একটি জাদুঘর।
বছরের বিভিন্ন সময় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা ও জাদুঘর
দেখতে আসে। সরকার বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের নামে তৈরি করেছে একটি স্মৃতি জাদুঘর
ও লাইব্রেরি। কিন্তু রউফনগরে চলাচলের রাস্তাটির উন্নতি হয়নি স্বাধীনতাযুদ্ধের ৫৩ বছর
পরেও। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মনে রয়েছে ক্ষোভ।
কামারখালী বাজার
থেকে মধুমতী নদীর তীরের নিকটে কিছুটা পিচঢালা পথ। এরপর ফুলবাড়িয়া থেকে শুরু হয়েছে
ইট বিছানো হেরিং বোন রাস্তা। এ রাস্তা দিয়ে রউফনগর ছাড়াও গন্ধখালী, দয়ারামপুর,
কোমরপুর, বকশিপুর, মাধবপুর, চরপুকুরিয়া ও মাগুরা জেলার মহম্মদপুরসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের
হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে।
গন্ধখালী গ্রামের
মো. নাসির বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই রাস্তা এমন দেখে আসছি। পাকা হবে তা শুনে আসছি। কিন্তু
তা আর হয় না।’ একই গ্রামের মো. বিপ্লব বলেন, ‘প্রতিদিন এদিক দিয়ে কাজে যাতায়াত
করি। রাস্তায় চলাচলে সুস্থ মানুষ অসুস্থ হওয়ার অবস্থা।’
এদিকে রউফনগরে
চলাচলের রাস্তা থেকেও জরাজীর্ণ অবস্থা বীরশ্রেষ্ঠের বসতভিটার। অনেক আগে এক তলা একটি
পাকা ভবন তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভবনটি এখন পরিত্যক্ত। দরজা-জানালা চুরি হয়ে
গেছে।
সালামতপুর গ্রামের
মো. পারভেজ নামের এক ছাত্র বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠের বাড়িতে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই।
দরজা-জানালা সব চুরি হয়ে গেছে। টিউবওয়েলের মাথা পর্যন্ত নেই। এভাবে থাকলে কিছু দিন
পরে বাড়ির ধ্বংসাবশেষও পাওয়া যাবে না।’
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী
আব্দুর রউফের বড় বোন জোহরা বেগম আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘এটা যে একটা বীরশ্রেষ্ঠের বাড়ি
দেখে তা কেউ কবে (বলবে) না। কত মানুষ আসে তারাও আফসোস করে। বাড়ির সবকিছু এখন অকেজো।
বীরশ্রেষ্ঠের নামে একটি প্রাইমারি স্কুলের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রীর
কাছে। সে কাগজ কোথায় আছে কিছুই জানি না।’
মধুখালী উপজেলা
নির্বাহী অফিসার মামনুন আহমেদ অনীক বলেন, ‘মধুমতী নদীর ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা না থাকায়
ধসে যাওয়ার আশঙ্কায় রউফনগরের সড়কটির উন্নয়ন করা যায়নি, এ বছর মধুমতী নদীর তীর সংরক্ষণ
কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি, নদীর তীর সংরক্ষণের পর রাস্তাটির
উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।’