পাবনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৫১ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৫৭ পিএম
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন ও ফসলি জমি নদীগর্ভে। প্রবা ফটো
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশে দলীয় সরকারের পতনের পর বৈষম্যহীন দেশ
গঠনে দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই পাবনা সদর উপজেলার
ভাড়ারায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন করছে পাবনা ও কুষ্টিয়ার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
নদীর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলনের ফলে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে কৃষকদের শত শত বিঘা
ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি।
প্রকাশ্যে এসব ঘটলেও প্রশাসন নির্বিকার।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের চর কণ্ঠগজরা
এলাকায় বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখলে মনে হবে এটি কোনো নৌবন্দর। কিন্তু সেখানে প্রকাশ্যে
১৫ থেকে ২০টি ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। শতাধিক ট্রলারের মাধ্যমে এসব
বালু চলে যাচ্ছে পাবনার ভাড়ারা, দোগাছী, পাকশী, সুজানগর, কুষ্টিয়ার পাংশা, কুমারখালী
ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেন, নৌকার ওপর অস্ত্র নিয়ে তারা
বালু উত্তোলন করছেন। বছরের পর বছর ধরে এই কাজ চলছে। আমরা আশা করেছিলাম সরকার পতনের
পর বালু উত্তোলন বন্ধ হবে কিন্তু প্রশাসনের কার্যকরী কোনো উদ্যোগ দেখছি না। প্রতিবাদ
করলেই আমাদের দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। যেন এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার
কেউ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের
সহযোগী আব্দুল আলিম এবং পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান
মাহমুদ খানসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রিত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে এই
বালু উত্তোলনের মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। নৌ পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলগুলোকে ম্যানেজ
করেই চলছে বালু উত্তোলন। গত বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করায়
তিন কৃষককে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে প্রাণনাশের হুমকি। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে
আর কেউ কথা বলতে সাহস করছেন না।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আব্দুল আলিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের
চেষ্টা করলেও সংযোগ বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান বলেন,
‘গত এক মাস ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু এসবের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার জড়িত
থাকার বিষয়টি মিথ্যা।’
এ বিষয়ে চেষ্টা করেও পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া
যায়নি।
তবে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি মিথ্যা বলে মন্তব্য করে পাবনার নাজিরগঞ্জ
নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন অভিযানে যাই তখন তারা পালিয়ে
যায়। আমাদের জনবলও কম, তারপরও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আবারও অভিযান
চালাব।’