মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম, হিলি (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৪০ পিএম
সড়ক পাকাকরণের দাবি জানিয়ে ধানের চারা রোপন করেছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের চাটশাল এলাকা। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার চাটশাল পাকা রাস্তার মোড় থেকে শিবরামপুর পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি বেহাল। ভাদুরিয়া ইউনিয়নের এ রাস্তাটি দিয়ে কাশিয়ারা, শিবরামপুর, হরিনাসহ ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে। দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ রাস্তাটি দিয়ে শিক্ষার্থী, রোগীসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে চলাচলে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় বর্ষাকালে। দুর্ভোগেরে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তাটিতে ধানের চারা রোপণ করেছে স্থানীয়রা। তাদের দাবি রাস্তাটি দ্রুত পাকা করা হোক।
সরেজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টির পানি জমে রাস্তায় কাদা হয়ে আছে। আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিগত দিনে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও রাস্তাটি পাকাকরণ হয়নি। তারা শুধুই আশ্বাস দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি দিয়ে আশপাশের ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার লোক চলাচল করে। অল্প বৃষ্টিতেই কাঁচা রাস্তাটি দেখে মনে হয় চাষ করা জমি। কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচলে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। চলাচলে বিপাকে পড়তে হয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। সমস্যা হয় কৃষিপণ্য ও মালামাল আনা-নেওয়ায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগী ও তার স্বজনদের। ভোগান্তির প্রতিবাদস্বরূপ গত বৃহস্পতিবার রাস্তাটিতে ধানের চারা রোপণ করে স্থানীয়রা।
মোনজুরুল ইসলাম রুমোন, মোহায়মেনুল ইসলাম মোহন, জাহিদুল সরকার, মাওলানা শামছুল হকসহ কয়েকজন বলেন, আমরা ১০ গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এই দুই কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে হেঁটে প্রধান সড়কে যেতে হয়। বর্ষাকালে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসা করতে পারে না। শুনেছি রাস্তা নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছে। দুই পাশের গাছগুলো অনেক আগে এক ঠিকাদার কিনেছে। নানা জটিলতায় তিনি গাছগুলো কাটছে না। আর আমাদের রাস্তার নির্মাণকাজও হচ্ছে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোনারুল ইসলাম বলেন, এই ওয়ার্ডের রাস্তাটির বেহাল। বর্ষাকালে রাস্তা দিয়ে লোকজন চলাফেরা করতে পারে না। এর আগে আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে রাস্তার বিষয়ে অনেকবার বলেছি, কোনো গুরুত্ব দেয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের নিকট বিষয়টি আবারও জানাব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনিসুর রহমান বলেন, চাটশাল পাকা রাস্তার মোড় থেকে শিবরামপুর গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণ জরুরি। বর্ষাকালে কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের খুবই অসুবিধা হয়। তবে রাস্তার দুপাশের গাছগুলো সমস্যার সৃষ্টি করেছে। গাছগুলোর মালিক ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি সমিতির সদস্যরা। এর আগের ইউএনও গাছগুলো কাটার জন্য টেন্ডার দিয়েছিলেন। কিন্তু সমিতির সাধারণ সম্পাদক আদালতে মামল করেছেন। যার কারণে গাছগুলো কাটা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান এখানে অনেকটা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। উপকারভোগীর সাধারণ সম্পাদক যদি মামলা তুলে নেন, তাহলে পুনরায় টেন্ডার দিয়ে গাছগুলো কাটা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী হোসেন আলী বলেন, রাস্তাটির দুইপাশের গাছগুলো কাটা হয়নি। গাছগুলো যে সমিতির, সেই সমিতির সাধারণ সম্পাদক আদালতে মামলা করেছেন। যার কারণে রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ। মামলার সুরাহা হলেই কাজ শুরু হবে।
মামলার বিষয়ে জানতে সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী সংগঠন শিবরামপুর যুব উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রফিকের মোবাইলে ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।