চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:২০ পিএম
ভোলার চরফ্যাশনে সেন্ট্রাল ইউনাইটেড প্রাইভেট ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের সময় মুন্নি আক্তার নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় নবজাতক। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আঁখি আক্তারের ভুল চিকিৎসায় ওই নারীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
নিহত মুন্নি আক্তার আমিনাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের সময় তার মৃত্যু হয়।
প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখে তাকে বরিশাল শেবাচিমে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর ঘটনা টের পেলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ওই নারীর পরিবারকে এক লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে।
নিহত মুন্নির বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, দুপুরে তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে চরফ্যাশনের সেন্ট্রাল প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত গাইনি চিকিৎসক ডা. আঁখি আক্তার কোনোরকম পরীক্ষা ছাড়াই গর্ভের সন্তান সংকটাপন্ন বলে জানান এবং মেয়েকে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় নবজাতক শিশু জীবিত থাকলেও মুন্নি আক্তার মারা যায়। বিষয়টি চিকিৎসক ও নার্সরা গোপন রেখে তার মেয়েকে দ্রুত বরিশালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। ঘটনাটি তিনি এবং তার স্বজনরা বুঝতে পেরে প্রকৃত ঘটনা জানতে চান। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের চাপের মুখে মেয়েকে লালামোহন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের সময় তার মৃত্যু হয়েছে। পরে মরদেহ নিয়ে ওই ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের হুমকিতে তারা মৃতদেহ নিয়ে ক্লিনিক ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
তিনি আরও জানান, মুন্নির মরদেহ দাফনের পর রাতে ওই ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষ তাদের বাড়িতে আসেন। তারা নবজাতকের চিকিৎসা করানোর জন্য এক লাখ টাকা দেন।
এ বিষয়ে জানতে ওই ক্লিনিকে গেলে চিকিৎসক আঁখি আক্তারকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিক ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
ক্লিনিকের পরিচালক মো. বশির আহমেদ জানান, বাড়িতে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করে যখন প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন তখন তাকে ক্লিনিকে নিয়ে আসে। চিকিৎসকের কাছ থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে প্রসূতি নারীর জ্ঞান না ফেরায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে রেফার করা হয়। তবে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন অস্ত্রোপচারের সময় তিনি স্ট্রোক করেছেন, পরে মারা গেছেন।