চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:০৬ পিএম
প্রতীকী ছবি।
নারীকে বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দেন আবুল কালাম। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করতে পারলেও আবুল কালাম খালের স্রোতে ভেসে যান। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের সাতকপাট এলাকায়।
আবুল কালাম আলমডাঙ্গা সদরের কাঁচাবাজার পাড়া এলাকার প্রয়াত আব্দুল মজিদের ছেলে। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের সাতকপাট এলাকায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) খাল থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গণি মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত দুদিন আবুল কালাম খালের পানিতে নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এক নারীকে বাঁচাতে জিকে খালের পানিতে আবুল কালাম ঝাঁপ দেন। তার সহযোগিতায় ওই নারীকে উদ্ধার করেন উপস্থিত লোকজন। তবে খালের পানির স্রোতে তিনি ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। ওই দিন রাত থেকে খুলনা ফায়ার সার্ভিসের ৬ সদস্যের ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালায়।
শনিবার সকালে জিকে খালে জাল পাততে গিয়ে আবুল কালামের মরদেহ ভাসতে দেখেন বলে জানান ডাউকি গ্রামের কৃষক হাসেম আলী। তিনি বলেন, ‘পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা গণত্রাণ কমিটির সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীদের সহযোগিতায় খাল থেকে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্বজনেরা এসে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন।’
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে শুক্রবার রাত ৯ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। খালের পানি বেশি থাকায় ও পাশে জঙ্গলের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়েছিল। খালের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। শনিবার সকালে আরও এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে বৃদ্ধ আবুল কালামের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়।