চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:২২ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৫ পিএম
অভিযুক্ত কামাল হোসেন।
ভোলার চরফ্যাশনের মুজিবনগর ইউনিয়নের চর লিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন এক দিন বিদ্যালয়ে গিয়েছেন। এর পর থেকে অনুপস্থিত থাকায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, উন্নয়ন খাত ও অর্জিত খাতের টাকা এবং প্রতিষ্ঠানে অনুকূলে বরাদ্দকৃত বিবিধ সরঞ্জাম আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তার সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিদ্যালয় ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ১৯২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত দুজনসহ পাঁচজন শিক্ষক ও দুজন কর্মচারী রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক কালেভদ্রে স্কুলে গেলেও তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদাউস ২০১৫ সালে নিয়োগ পেলেও এক দিনের জন্যও যাননি। স্বামী প্রধান শিক্ষক হওয়ায় স্কুলে না গিয়েও ১০ বছর ওই শিক্ষিকা বেতন তুলেছেন বলে অভিযোগ।
গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীরা স্কুলে গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারতেন না। এক-দেড় মাস পর পর প্রধান শিক্ষক যেদিন স্কুলে যেতেন, সেদিন হাজিরা খাতায় পেছন থেকে সবাই স্বাক্ষর করার সুযোগ পেতনে। ওই বিশেষ দিনে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউসের স্বাক্ষর প্রধান শিক্ষক নিজেই দিয়ে দিতেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি, সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদাউসের অনিয়ম, হাজিরা খাতা প্রকাশ্যে আনাসহ নানান ইস্যুতে অভিভাবকরা স্কুলে আসতেই প্রধান শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছন।
বিদ্যালয়ের বিলুপ্ত ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সদস্যসহ প্রতিষ্ঠাতা দাতা সদস্য মো. বাবুল মিয়া জানান, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের আলমিরা, পুরাতন টিন-কাঠ, সীমানা প্রাচীরের কাঁটাতার, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, স্যোলার প্যানেল সব বিক্রি করে খেয়েছেন। একইভাবে তিনি বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় তার অনিয়মের কাছে অসহায় ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা।
শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, রেজিস্ট্রেশন, টিউশন ফি, উপবৃত্তিসহ সব আয় কোনো হিসাব ছাড়া এককভাবে আত্মসাৎ করেছেন। অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়ে থেকে তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি শিক্ষকদের চাকরি হারানোর হুমকি দিতেন। তাই কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করতে সাহস পেত না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই এসব অন্তহীন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিভাকরা মুখ খুলতেই তিনি বিদ্যালয় ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া তার মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিবার কল করলেও রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাতে জানানো হবে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নওরীন হক বলেন, বিষয়টি শুনেছি। খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।