সাইদুর রহমান আসাদ, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৪৪ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৪৯ পিএম
তাহিরপুরের টাকেরঘাট এলাকার পাটলাই নদের ওপর ডাম্পের বাজার থেকে নতুন বাজার সেতুতে স্নাব নির্মাণে ব্যস্ত শ্রমিকরা। প্রবা ফটো
বহুল প্রত্যাশিত তাহিরপুরের টাকেরঘাট পর্যটন এলাকার ডাম্পের বাজার থেকে নতুন বাজার সেতুর কাজ শেষ হয়নি পাঁচ বছরেও। দুই বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও পার হয়েছে আরও অতিরিক্ত সাড়ে তিন বছর। স্থানীয়রা বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজে ধীরগতির কারণে কাজ শেষ হচ্ছে না।
তাহিরপুরের পর্যটন এলাকা টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী), বড়গোপ টিলা, যাদুকাটা নদী ও শিমুলবাগানে পর্যটকদের চলাচলে গতি আনতে ২০১৮ সালে পাটলাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ শুরু হয়। জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ডাম্পের বাজার থেকে নতুন বাজার সেতুর কাজ পায় তমা কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী ৪৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৭৯ টাকার সাড়ে চারশ মিটার এই সেতুর কাজ শেষ করার কথা ২০২১ সালের মধ্যে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে গাফিলতি ও কাজের ধীরগতির কারণে প্রায় সাড়ে তিন বছর অতিরিক্ত সময় পার হলেও এখনও শেষ হয়নি পুরোপুরি সেতুর কাজ।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, এখনও সেতুর ওপরের একটি স্ল্যাবের কাজ বাকি রয়েছে। সেখানে রড বিছানোর কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক। সেতুর ওপরের দুই পাশের রেলিংয়ের কাজ শেষ হয়নি। পুরো সেতুতে নয়টি স্ল্যাবের আটটি শেষ হলেও প্রতিটির শুরু ও শেষ অংশ সমান হয়নি। এ ছাড়া বাকি আছে দুই পাশের চারশ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ। কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরোপুরি কাজ শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে।
এদিকে স্থানীয়রা বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ করেছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলেও অনেক সময় কাজ বন্ধ ছিল। এ কারণে সময়মতো কাজ শেষ করা যায়নি। এখনও যে কাজ বাকি রয়েছে তা শুষ্ক মৌসুম লাগবে শেষ করতে। এটি শেষ হলে এই এলাকায় পর্যটনে গতি বাড়বে। কমবে পর্যটকদের ভোগান্তি।
তাহিরপুরের উত্তর শ্রীপুরের বালিয়াঘাট গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান বাবর বলেন, ‘আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই সেতু নির্মাণের। ২০১৮ সালে কাজ শুরু হলেও ধীরগতির কারণে সময়মতো শেষ হয়নি। এ কারণে কাজ শুরুর পরে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, ধীরগতির কারণে তা থমকেও গেছে। এটি চালু হলে পর্যটন খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কাজ শুরুর পরে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে গতি কিছুটা কমেছে। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় সেতু নির্মাণের কাঁচামাল পরিবহনে জটিলতা ছিল। এ ছাড়া কাজ শুরুর পরে কাঁচামালের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। আশা করি, দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ হবে।’
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সেতুটি করতে প্রায় ছয় বছর সময় লেগে যাচ্ছে। এখানে বছরে তিন থেকে চার মাসের বেশি সময় কাজ করা যায় না। এ কারণে সময় বেশি লাগছে। বর্তমানে একটি স্ল্যাব ও দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ বাকি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করে মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’