হিরু আলম, পেকুয়া (কক্সবাজার)
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৫ পিএম
পেকুয়া বাজারের পাশে কহলখালী খালে ময়লার স্তূপ। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
দখল-দূষণে মরতে বসেছে কক্সবাজারের পেকুয়ার কহলখালী খাল। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দিনের পর দিন দখল করে রাখায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে খালটি। অন্যদিকে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালের পানি দূষিত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, পেকুয়া বাজার লাগোয়া খালের প্রায় এক কিলোমিটার অংশের পাড় দখল হয়ে গেছে। সেখানে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে স্থাপনা। ময়লা-আবর্জনা ফেলায় গন্ধ ও দূষণে এলাকায় টিকে থাকা দায়। পানি প্রবাহের স্থান সরু হয়ে পড়েছে। খালের কিছু অংশে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে এখন এটি ময়লার ভাগাড় ও মশা উৎপত্তিস্থলে পরিণত হয়েছে।
কলহখালী খাল দখল নিয়ে স্থায়ীয় এক কৃষক শামসুল আলম বলেন, ৪০ বছর ধরে আমি শুষ্ক মৌসুমে সেচযন্ত্র বসিয়ে ধান চাষ করতাম। খাল দখলের কারণে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তিন বছর ধরে সদর ইউনিয়নে ২০০ একর জমি চাষ করা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে দখল উচ্ছেদ করা না হলে কহলখালী খালের নাব্যতা হারাবে।
কহলখালী খালের তীরবর্তী বাসিন্দা এক মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা কামাল হোসেন বলেন, একসময় এই খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। এখানে যাতায়াতের বিকল্প পথ হিসেবে নৌকা ছিল একমাত্র মাধ্যম। এই নৌকা দিয়ে আমরা কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চট্টগ্রাম যাওয়া-আসা করতাম। এখন কহলখালী খাল দখল করে বসতবাড়ি ও দোকানপাট হয়ে গেছে। এখন আর খাল নেই।
গত ১০ জুলাই পেকুয়া কো-অপারেটিভ ক্রেডিট লিমিটেডের (ঋণদান সমবায় সমিতি) সভাপতি নুরুল আবছার ব্যক্তি উদ্যোগে ১৫০ মিটার খাল পরিষ্কার করেন। নুরুল আবছার বলেন, কহলখালী খাল দখল করে বাজারে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। খালের যে অংশটুকু অবশিষ্ট আছে তা ময়লা-আবর্জনায় পানি চলাচল করতে না পারায় আমি নিজ অর্থায়নে ও আমাদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় কহলখালী খাল পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি।
পেকুয়া সদর ইউপির চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ্ বলেন, কারা খালের পাড় দখল করছে, তা সবাই জানে। বিষয়টি দেখার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।