চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:২৯ এএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৪:৩৫ পিএম
তাহাজ্জেল হোসেন, শিশু জিহাদ ও তার মা। প্রবা ফটো
ঘরে একমুঠো চাল নেই, হাতে টাকাও নেই, তাই রান্না হয়নি। মসজিদ থেকে পাওয়া খিচুড়ি খেয়েই দিন পার করছে শিশু জিহাদসহ তার বৃদ্ধ অসুস্থ বাবা তাহাজ্জেল হোসেন ও মা হাফিজা খাতুন। হাফিজা খাতুন দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। তিনি স্যালাইন পানি খেয়েই দিন পার করছেন।
শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর)
সন্ধ্যায় কাঁদতে কাঁদতে এ কথা জানান বৃদ্ধ তাহাজ্জেল হোসেন।
এর আগে বুধবার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় যাত্রীবেশে শিশু জিহাদের ভ্যানটি ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতকারীরা।
ঋণের টাকায় কেনা একমাত্র উপার্জনের সম্বল ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি হারিয়ে পরিবারটি দিশাহারা
হয়ে পড়েছে। বাবা অ্যাজমা রোগী হওয়ায় ১২ বছর বয়সি শিশু জিহাদের উপার্জনেই চলত সংসার।
এক দিন ভ্যান না চালালে খাবার জোটে না পরিবারটির। ভ্যান চুরির পর থেকে ওই বাড়িতে রান্নাবান্না হয়নি বলে জানা
গেছে।
বৃদ্ধ তাহাজ্জেল হোসেন
বলেন, ঘরে রান্নার জন্য কিছুই নেই। নেই কোনো নগদ টাকাও। শুক্রবার বাড়িতে কোনো রান্না
হয়নি। জুমার নামাজের পর মসজিদ থেকে এক থালা খিচুড়ি দিয়েছিল। সেটা বাবা-ছেলে খেয়েছি।
এখন রাতে কী খাব জানি না। এখন পর্যন্ত আমাদের কেউ কোনো খোজঁও নেয়নি।
বৃহস্পতিবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামের পোস্ট
অফিস পাড়ায় শিশু জিহাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থ মা হাফিজা খাতুন বিছানায়
শোয়া। কিডনি, ডায়াবেটিস, হার্টের রোগে ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরে। বাবা তাহাজ্জেল হোসেনেরও
বয়স হয়েছে। আর ভ্যান চালাতে পারেন না তিনি। অ্যাজমা রোগী। ভ্যান চালাতে কষ্ট
হয়। তাই একটি এনজিও থেকে আট মাস আগে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে জিহাদকে ভ্যান কিনে দিয়েছিলেন
। এর পর থেকে ভ্যান চালিয়ে যা উপার্জন হতো তা দিয়েই টেনেটুনে চলত সংসার।
হাফিজা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায়। কিডনি, ডায়াবেটিস, হার্টের রোগে ভুগছেন। কিছুই খেতে পারেন
না। স্যালাইন পানি পান করেই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন। তার চিকিৎসার জন্য ওষুধ লাগে। ঘরে
এখন চাল কেনারও টাকা নেই বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ তাহাজ্জেল।
তিনি আরও বলেন, আমার
ছেলে স্থানীয় বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। এরপর সে আর পড়েনি।
এখন আমার এ ছেলেটাই সম্বল। সে আমাদের দেখাশোনা করে। যাত্রীবেশে ছেলের কাছ থেকে ভ্যান
নিয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ভ্যান কিনে দিয়েছিলাম ঋণের টাকা পরিশোধ করব কীভাবে>
অঝোরে কাঁদতে থাকেন তাহাজ্জেল হোসেন।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গারসদর হাসপাতাল থেকে শিশু জিহাদের ভ্যানে একজন যাত্রী উঠে শহরের বড় বাজারে নিয়ে যেতে বলেন। সেখান থেকে দরদাম করে আলমডাঙ্গায় নিয়ে যায়। এরপর আলমডাঙ্গা স্টেশনসংলগ্ন স্থানে গেলে জিহাদকে পাশের দোকান থেকে একটি বস্তা নিয়ে আসতে বলেন ওই যাত্রী। ফিরে এসে জিহাদ দেখে তার ভ্যান নেই।