রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৫:৩০ পিএম
প্রতীকী ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে
একটি প্রতিষ্ঠানে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে গত বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুই পক্ষের সংঘর্ষের
ঘটনা ঘটেছে। এতে সাতজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার আতলাসপুর এলাকায় আবারও
উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন
আতলাসপুর এলাকার বাসিন্দা দোলন ভূঁইয়া, আব্দুস সামাদ, আনোয়ার হোসেন ও কাওসার মিয়া এবং
ড্রেজার শ্রমিক বাবুল মিয়া, জাকির হোসেন ও মিন্টু মিয়া।
দুই পক্ষের সংঘর্ষের
তথ্য প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত)
জোবায়ের হোসেন। তিনি বলেন, ‘বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক
অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে
জানা গেছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আতলাসপুর এলাকায় দুই পক্ষ বেপরোয়া
হয়ে ওঠে। এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন ভুলতা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি
আব্দুল সামাদ। আরেক পক্ষে আছেন ভুলতা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সেলিম মোল্লা।
আতলাসপুর এলাকায় পেপারটেক কারখানা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বালু ভরাটের কাজ নিয়ে কয়েকদিন
ধরে আব্দুল সামাদের সঙ্গে সেলিম মোল্লার বিরোধ চলে আসছে।
গত বুধবার বেলা ১১ টার
দিকে আতলাসপুর বেলতলা এলাকায় বালু ভরাটের জন্য ড্রেজারের পাইপ টানছিলেন সেলিম মোল্লার
লোকজন। এ সময় আব্দুল সামাদের লোকজন সেখানে গেলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের
মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত সাতজন আহত
হন। এই ঘটনায় দুই পক্ষই রূপগঞ্জ থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আব্দুল
সামাদ বাদী হয়ে সেলিম মোল্লার পক্ষের লোকজনের পাশাপাশি পারিবারিক শত্রুতার জেরে ব্যবসায়ী
কাউসার আহমেদ ও তার বাবা আওলাদ হোসেনের নামে অভিযোগে দিয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
আওলাদ হোসেন হলেন আব্দুল সামাদের চাচাতো ভাই।
কাউসার আহমেদ বলেন,
‘পারিবারিক শত্রুতা থাকায় সামাজিকভাবে হেয় করতে
চাচা আব্দুল সামাদ আমাদেরকে হয়রানির চেষ্টা করছেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
এদিকে শুক্রবার সকালে
বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে আবারো দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। যেকোনো সময় সংঘর্ষের
আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আব্দুল সামাদ
বলেন, ‘বালু ভরাটের বিষয় নয়। আমার জমি দিয়ে ড্রেজার
পাইপ নিতে গেলে বাধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা করে।’
নিয়ম-নীতি মেনে পেপারটেক
কারখানায় বালুভরাটের জন্য পাইপলাইন টানছিলেন বলে জানান সেলিম মোল্লা। তিনি বলেন, ‘বালু ভরাটের কাজটি ছিনিয়ে নিতে আব্দুল সামাদসহ তার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা
আমাদের ওপর হামলা করে।’
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা
বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, ‘দলের
নির্দেশ, কেউ কোনো জায়গায় সংঘাতে জড়াতে পারবে না। আর যদি জড়ায় এবং দলের ভাবমূর্তি
ক্ষুণ্ণ হয় তাহলে দল থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’