খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৩১ পিএম
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘এক টাকায় বাজার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বাজারের উদ্বোধন করেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ মো. আমান হাসান। জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল হাসনাত জুয়েল, রিজিয়নের জিএসও-২ (আই) মেজর জাবির সোবহান মিয়াদ, জোনের উপঅধিনায়ক মেজর মো. সিদ্দিকুল ইসলাম, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর জামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ মো. আমান হাসান বলেন, সেনাবাহিনী ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এক টাকায় বাজার ও ১০টি অস্বচ্ছল পরিবারকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এটা অত্যন্ত প্রশংসারযোগ্য ও মহতি উদ্যোগ। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সারা বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও অসহায় মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সামরিক ও বেসামরিক বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজের মূল লক্ষ্য হলো সমাজে যারা স্বল্প আয়ের মানুষ, যারা বাজার থেকে উচ্চ মূল্যে পণ্য কিনতে পারেনা, তাদেরকে সহযোগিতা করা।
বাজারে প্রতিটি পণ্য বিক্রি মাত্র ১ টাকায় বিক্রি করা হয়। চাল, ডাল, আটা, তেল, ডিম, মাছ, মুরগী, কাপড়, শিক্ষা উপকরণসহ ১৯ ধরনের পণ্যের মধ্যে সাতটি পণ্য ক্রেতারা পছন্দমতো কিনতে পেরেছে। আর এ সাতটি পণ্যের বাজার মূল্য ৮০০-১০০০ টাকা। জেলার চার উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মোট ৫০০ পরিবার এই সুবিধা পেয়েছে। এর আগে চার উপজেলা প্রত্যন্ত এলাকায় ঘরে ঘরে বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবকরা উপকারভোগীদের টোকেন বিতরণ করেন। উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী, দিনমজুর, কৃষক ও বিধবাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অস্বচ্ছল ১০ পরিবারের মাঝে গরু, ঘর, সেলাই মেশিন ও দোকান পরিচালনার জন্য মালামাল বিতরণ করা হয়েছে।
গরু পেয়ে খাগড়াছড়ি সদরে ভূয়াপুর বারেক টিলা এলাকার সুফিয়া বেগম বলেন, আমি পঙ্গু মানুষ। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন থেকে গরু পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। গরু লালন পালন করে পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা দূর করতে পারবো। আমি এবং আমার পরিবার বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কাছে চির কৃতজ্ঞ।
নতুন ঘর পেয়ে শান্তিনগর এলাকার আরতী নাথ বলেন, বন্যায় আমার ঘর সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। ঘর হারিয়ে খুব অসহায় হয়ে পড়ি। আমাকে নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
পানছড়ি থেকে বাজারে আসা আসা লাকি ত্রিপুরা বলেন, বন্যায় ঘরবাড়ি সব ডুবে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়ি। বাচ্চাকে পছন্দের মুরগীর মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াতে পারিনি ম্যালা দিন। আজ এ বাজার থেকে এক টাকায় মুরগী কিনে মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াতে পারবো। এই রকম বাজার ভবিষ্যতে আরও আয়োজন করলে ভালো হয়।
রুখই চৌধুরী পাড়ার মাহফুজা বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেশি। আজকে এক টাকায় অনেকগুলো পণ্য কিনতে পেরেছি। মনে হচ্ছে যেন ঘুমের মধ্যে এক টাকার বাজারের স্বপ্ন দেখছি। সবকিছুই স্বপ্নের মতো লাগছে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক নেউ মগিনি বলেন, মূলত দরিদ্র অসহায় মানুষকে পণ্য বাছাই করার স্বাধীনতা দেওয়ার জন্যই এই বাজারের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পেরে গর্ববোধ করছি।
আরেক স্বেচ্ছসেবক ইতু চৌধুরী বলেন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এক টাকায় বাজার কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পেরে ভালোই লাগছে।
স্বেচ্ছসেবক মোবারক হোসেন বলেন, আমরা সমতল থেকে পাহাড়- সবখানে খেটেখাওয়া ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। পাহাড়ের এসব কাজে বিদ্যানন্দ সম্পৃক্ত হতে পারাটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর জামাল উদ্দিন বলেন, দেশের যেকোন দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। বর্তমানে বন্যাদুর্গত ৮ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবকরা। খাগড়াছড়িতে ২১ আগস্ট থেকে আজ অবধি স্বেচ্ছাসেবকরা ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে। পাশপাশি অতি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করছে বিদ্যানন্দ। সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পছন্দমতো নামমাত্র মূল্যে বাজার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে পরিবারের কর্তা ব্যক্তি তার পছন্দের বাজার নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। এতে একদিনের জন্য হলেও তারা নিজেদের সুখী ভাবতে পারবেন।