বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৪২ পিএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৫২ পিএম
বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাসপাতালে ঢুকে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত প্রান্ত দাস (৩৭) বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্মকর্তা।
গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত প্রান্ত দাস চিতলমারী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মৃত দেবেন্দ্রনাথ দাসের ছেলে। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামলার পর তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে পরে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে তার ওপর হামলা করা হয়। এ সময় হামলাকারীদের মারধরে তার মা ও বোন আহত হয়েছেন। পরে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রান্ত দাসসহ তার মা গীথা দাস (৬০) ও বোন স্নিগ্ধা দাসকে (৪০) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত প্রান্তর বোন স্নিগ্ধা দাস বলেন, উপজেলার শিবপুর গ্রামের ফারুক মুন্সির সঙ্গে আমাদের জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। সেদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছয়-সাতজন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভাই প্রান্ত দাসের ওপর হামলা করে। ভাইয়ের চিৎকারে আমরা ছুটে আসি। একপর্যায়ে গ্রামবাসীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। পুলিশ চলে গেলে রাতেই ফারুক মুন্সির নেতৃত্বে ২০-২৫ জন হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেয় এবং আমার ভাইকে মারধর করতে থাকে। আমি ও মা এগিয়ে আসলে, আমাদেরকেও মারধর করে। অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক মুন্সি বলেন, ‘প্রান্ত দাস ও তার ভাড়াটিয়া লোকজন আমার স্ত্রীর ক্রয়কৃত জায়গার ঘর ভাঙচুর করে। এ নিয়ে সমস্যা ছিল। তবে প্রান্তকে আমরা মারিনি।
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) চিকিৎসক মো. সুমন তালুকদার বলেন, জরুরি বিভাগে এক রোগীর ওপর হামলা হয়েছে। থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার রায় বলেন, রাতে খবর পেয়ে প্রথমে প্রান্ত দাসদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আবার হাসপাতালে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আহতরা লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।