সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৪৪ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৩৯ পিএম
খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ফাইল ফটো
সাবেক মন্ত্রী ও ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার
মোশাররফ হোসেনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ফরিদপুর দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক
কমিটির সদস্য মো. দিলদার হোসেন সবুজ। ফরিদপুর জেলা ১ নম্বর আমলি আদালতের (দ্রুত বিচার)
বিচারক নাসিম মাহমুদ মামলাটি গ্রহণ করে কোতোয়ালি থানার ওসিকে নথিভুক্ত করার নির্দেশ
দেন।
মামলায় সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহতেশাম হোসেন বাবর, যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক খন্দকার নাজমুল
ইসলাম লেভী, ছাত্রলীগ নেতা সুপ্ত খানসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও
৩০/৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, মো. সাদমান সৌমিক, তানিজর হাসান শোভন, সাইফুল
ইসলাম জীবন, রবিউল মোল্লা, লিটন মোল্লা, শাহিনুজ্জামান সোহান, সুমন খান ওরফে লেডিস
সুমন, অমিত সরকার, সাজিদ খান, জহুরুল শেখ ও আতিয়ার শেখ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট
এলাকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ফুল দিতে
যান। ফুল দিয়ে ফেরার পথেই ভাঙ্গা রাস্তার মোড়ে এলে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে
নেতাকর্মীদের ওপর উল্লিখিতরা হকিস্টিক, লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র রামদা নিয়ে হামলা
করে। এতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের তৎকালীন আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েলকে খুন করার
উদ্দেশ্যে খন্দকার নাজমুল ইসলাম লেভী ও সাইফুল ইসলাম জীবন রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দেয়।
এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অন্যরা। এ হামলায় অভিযোগকারীও
আহত হন এবং আহতরা পালিয়ে থেকে চিকিৎসা নেন বলে উল্লেখ করেন মামলায়। সেই সময় থানায় মামলা
করতে গেলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় মামলা করতে দেওয়া হয়নি বলে বাদী অভিযোগ করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, অভিযোগটি দ্রুত বিচার
আদালতের মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিচারক নাসিম মাহমুদ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফরিদপুর
কোতোয়ালি থানায় মামলা রুজু করে তদন্তের জন্য ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানুজ্জামান
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আদালতে একটি অভিযোগ হয়েছে শুনেছি। এখন কোর্ট থেকে থানায়
পাঠালে তা রুজু করে তদন্ত করা হবে।