নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৫১ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:২০ পিএম
আড়াইহাজার থানা। ফাইল ফটো
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় করা উপজেলার
দুপ্তারা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বাবুল মিয়া হত্যা মামলা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৩ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবুল মিয়ার মৃত্যু হলেও দুই মাস পর বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনে যাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয় উল্লেখ করে ২২ আগস্ট
হত্যা মামলা করেছেন ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন।
তবে বাবুল মিয়ার মৃত্যুর সনদ বলছে,
৩ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। সে হিসাবে এটি গায়েবি মামলা হিসেবে
দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সচেতন নাগরিক হিসেবে অংশ নেন বাবুল মিয়া। ওইদিন সন্ধ্যা
৭টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাবুল মিয়াকে কালিবাড়ী বাজার থেকে তুলে
নিয়ে দুপ্তারা ঈদগাহ মাঠে হত্যা করা হয়।
তবে বাবুল মিয়ার মৃত্যুসনদ ও স্বজনদের
কাছ থেকে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৩ জুন তিনি মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে
বিএনপি মহাসচিব তখন শোকবার্তাও পাঠিয়েছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানিয়েছেন।
বাবুলের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে
কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে আওয়ামী লীগের
সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর ছোট ভাই নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা
বাবুলকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত
জখম করে তারা। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন বাবুল। এরপর
৩ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।
৩ জুন উপজেলার গিরদা-পশ্চিমপাড়া-চৌধুরীপাড়া
কবরস্থানে এই বিএনপি নেতার মরদেহ দাফন করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক
সেলিম মিয়া।
এ ছাড়া ৩ জুন বাবুলের মৃত্যু হয়েছে
বলে মৃত্যুসনদ দিয়েছে রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় অবস্থিত ডিকেএমসি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বাবুলের সেই মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়Ñ গত ৩ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে
তার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক
ব্যক্তি জানান, বাবুলের পরিবার এই সাজানো মামলা করতে রাজি না হওয়ায় পরিবারটির কাউকেই
সেই মামলায় সাক্ষী করা হয়নি।
এদিকে গত রবিবার বাবুল মিয়ার বাড়িতে
গিয়ে তার স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, মামলা নিয়ে জটিলতার কারণে এবং বিষয়টি সম্প্রতি
প্রকাশ পাওয়ায় তিনি রূপগঞ্জে নিজ বাবার বাড়িতে চলে গেছেন। এ অবস্থায় কারও সঙ্গে যোগাযোগও
করছেন না তিনি।
নিহত বাবুলের বড় ভাই আবদুল বাতেনের
স্ত্রী নাসিমা জাফরিন জানান, তার দেবর হত্যার সঙ্গে ১০-১১ জন সন্ত্রাসী জড়িত ছিল। কিন্তু
যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না, এমন ব্যক্তিদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে অভিযোগ তুলে
প্রকৃত অপরাধীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাবুল হত্যা মামলার বাদী বিএনপি
নেতা নুরুল আমিন বলেন, দলের সিদ্ধান্তে মামলাটি করা হয়েছে।
বাবুলের মৃত্যু হয়েছে ৩ জুন। মামলায়
বলা হয়েছে ৪ আগস্ট তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো ভুলভ্রান্তি
থেকে থাকলে সেটা দেখতে হবে।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) এহসান উল্লাহ বলেন, থানায় অভিযোগ নিয়ে আসায় এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে।
আমাদের কিছু করার নাই, পাবলিক মামলা দিয়েছে জবাব তারা দেবে। মামলা দেওয়া ও নেওয়ার অধিকার
আমাদের আছে। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিপোর্ট ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে
আমরা ব্যবস্থা নেব। ঘটনার সত্যতা তদন্তে ফুটিয়ে তুলব। তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।
আড়াইহাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে
বিএনপিকর্মী বাবুল মিয়াকে হত্যার অভিযোগ এনে গত ২২ আগস্ট রাতে দুপ্তারা ইউনিয়ন বিএনপির
সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা, সাবেক হুইপ ও এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১৩১
জনের নাম উল্লেখ এবং ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়।