কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:০১ পিএম
কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ। প্রবা ফটো
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের স্প্রিলওয়ে বা জলকপাটগুলো ৫ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে বাঁধ দিয়ে ৯৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু থাকায় প্রতি সেকেন্ডে আরও ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। সব পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি করেছে। ফলে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ আছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আব্দুজ্জাহের জানান, জলকপাটগুলোর উচ্চতা বাড়িয়ে পাঁচ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়। কাপ্তাই হ্রদে পানির চাপ কমলে আবার বাঁধের জলকপাটগুলোর উচ্চতা কমিয়ে আনা হবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে বর্তমানে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
এদিকে কাপ্তাই বাঁধের জলকপাটগুলো ৫ ফুট করে খুলে দেওয়ার পর কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বেড়েছে। এতে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সাময়িক বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ ১০৮.৭২ এমএসএল। পানির সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। ১০৮ এমএসএল ক্রস করলে তাকে বিপদসীমা ধরা হয়। পানি বিপদসীমা থেকে যথেষ্ট পরিমাণ নিচে না নামা পর্যন্ত পানি নিষ্কাশন অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
কাপ্তাই চন্দ্রঘোনার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনার সঙ্গে চলাচলকারী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ফেরি মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে রাঙামাটি-রাজস্থলী ও বান্দরবানের সঙ্গে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। বিপাকে পড়েছেন এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। তবে বিকল্প সড়ক হিসেবে রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন এলাকার সেতু ব্যবহার করছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে সওজ রাঙামাটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, কর্ণফুলী নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরি চলাচল সাময়িক বন্ধ আছে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকলে মঙ্গলবারও ফেরি বন্ধ থাকতে পারে। স্রোত কমলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।