সাতক্ষীরার আশাশুনি
কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:৪৭ এএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:৪৪ পিএম
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা সদরের মানিকখালী চর গ্রামে নদী ভাঙনের শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা সদরের মানিকখালী চর গ্রামে মরিচ্চাপ নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে চার শতাধিক পরিবার। চর গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন প্রায় ২০০ ফুট ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়েছে তাদের। দ্রুত ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসনের কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূমিহীন পল্লীর বাসিন্দারা।
আমীর হামজা খোকন নামে স্থানীয় একজন বলেন, মরিচ্চাপ নদী খননের জন্য ভাঙনস্থলে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা হয়ে যায়। পানি সরবরাহ না থাকায় বিগত দুবছর ধরে লোনাপানির জন্য বুধহাটা, আশাশুনি ও শোভনালী ইউনিয়নের চিংড়ি চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত। তাই কয়েক মাস আগে স্থানীয় লোকজন বাঁধ কেটে পানি সরবরাহ করেন। অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ কাটার কারণে জোয়ার-ভাটার সময় প্রায় ২০০ ফুট বেড়িবাঁধ ভাঙনের কবলে পড়েছে।
রেজাউল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, চরভরাটি এ এলাকাটি আশাশুনি সদরে হলেও এর অনেকাংশ বুধহাটা ইউনিয়নের জমি। বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক ডাবলু ভাঙন রোধে একটি রিং বাঁধ নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কাজ বন্ধ রয়েছে। অনতিবিলম্বে ভাঙন এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে প্রায় ৪০০ পরিবার ভেসে যাবে।
গতকাল সোমবার সকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল কুদ্দুস, সদর ইউনিয়নের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, রোকন বাবলুর রহমান, জামায়াত নেতা হযরত আলী সরদার, আমীর হামজা খোকন, জিয়াউল হক প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার বলেন, মরিচ্চাপ নদীর এ বাঁধটি ভেঙে গেলে চাপড়া ও আশাশুনি মৌজার ৪০০ পরিবার প্লাবিত হয়ে গৃহহীন হয়ে পড়বে। বাঁধটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে মানিকখালী ভূমিহীন পল্লী ভাসিয়ে উপজেলা পরিষদ আক্রান্ত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা তৎপর না হলে ভাঙনে চরের ভূমিহীন পল্লীসহ উপজেলা সদরের নকশা বদলে যাবে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণা রায়কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা (এসও) মোমেন আলী বলেন, ভাঙনের কথা শুনেছি। অনতিবিলম্বে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হবে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।