শরিয়ত উল্যাহ রিফাত, সোনাগাজী (ফেনী)
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:৪৪ এএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:১২ পিএম
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে কাজ করছেন নার্স। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
বন্যার দিনগুলোতে বিভীষিকাময় সময় কেটেছে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসক-নার্সদের। বন্যার সময় ২০ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত এ হাসপাতালে রেকর্ডসংখ্যক ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বন্যার সময় ছয় দিনে ৫১ প্রসূতির সফল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়।
বন্যার সময় সোনাগাজী উপজেলার চারদিকে কেবল থইথই পানি ছিল। বানের জলে ভাসছিল ঘরবাড়ি। ভেঙে পড়েছিল বিদ্যুৎব্যবস্থা, ছিল না মোবাইল নেটওয়ার্কও। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০-২৫ আগস্ট পর্যন্ত লেবার ওয়ার্ডে মোমবাতি, মোবাইল টর্চের আলোয় প্রসব ও সেলাইয়ের কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা।
বন্যার সময়ের ডেলিভারিগুলোর স্মৃতিচারণ করে নার্স লিজু আরা খাতুন বলেন, কখনও মোমবাতির আলো দিয়ে, কখনও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা টর্চলাইটের আলো দিয়ে, আবার কখনও কখনও মোবাইলের আলো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ডেলিভারি সম্পন্ন করেছেন।
লেবার ওয়ার্ডের ইনচার্জ রেজিয়া বেগম বলেন, ২০ আগস্ট রাত থেকে হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছিল না। ছয় দিন ধরে মোমবাতি কিংবা মোবাইল টর্চের আলোয় ডেলিভারি ও সেলাই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ডেলিভারি শেষে হাত ধোয়ার পানিটুকু পর্যন্ত পাননি। তবুও সেবা চলমান রেখেছেন।
রেকর্ডসংখ্যক ডেলিভারি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বন্যার কারণে ফেনীর সঙ্গে সোনাগাজীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াতে আগে যেসব এলাকার লোকজন ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিত, তারাও বন্যার সময় সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উৎপল দাশ বলেন, বন্যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ডুবে থাকলেও কখনও এক মিনিটের জন্যও বন্ধ ছিল না চিকিৎসাসেবা। অন্যত্র জরুরি বিভাগের চিকিৎসা চলমান রেখেছেন। বন্যার সময় রেকর্ডসংখ্যক ডেলিভারি হয়েছে। চিকিৎসক-নার্সরা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছেন।