সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:৪১ এএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:৩৫ পিএম
বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। চলাচলে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হয় স্থানীয়দের। সোমবার স্ট্যান্ড রোড থেকে তোলা। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম মহানগরীর গণিবেকারি থেকে জামালখান। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখন চলাফেরা করাই যেন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, জামালখান মোড় থেকে সার্সন রোড মোড় আশকারদিঘির পাড় হয়ে কাজীর দেউড়ি মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে শতাধিক ছোট-বড় গর্ত দেখা গেছে। গত রবিবার দুপুরে এসব এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এ অবস্থা দেখা গেছে।
শুধু এই দুই সড়ক নয়, চট্টগ্রাম নগরীর ৩২২টি সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সংগ্রহ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রকৌশল বিভাগ। সম্প্রতি নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা করেছে তারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, বর্ষার কারণে ছোট-বড় এসব গর্ত পার হয়ে যানবাহন চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে চালকদের। মো. ফরহাদ নামে এক টমটমচালক বলেন, চকবাজার থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত আমাদের এই টমটম চলে। এই আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার সড়কে মনে হয় শত শত গর্ত। এসব গর্ত পার হয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় গর্তগুলোতে পরে যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছে। এতে যাত্রীরা আমাদের গালিগালাজ করে। আমরা কাদের গালি দেব বলেন? সিটি করপোরেশন এসব গর্ত ভরাট করে না দিলে আমাদের কিছু করার আছে?
তখন গাড়িতে থাকা এক যাত্রী বলেন, মানসম্পন্ন বিটুমিন দিয়ে কাজ করে না বলেই বৃষ্টি হলেই বড় বড় গর্ত হয়ে যায়। সিটি করপোরেশনকে এখনই ধরার সময়।
একইভাবে চট্টগ্রাম নগরীর বারিকবিল্ডিং মোড় থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কেও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর থেকে এসব সড়কের দেখভালের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চলছে ঢিমেতালে। আত্মগোপনে থাকা চসিক মেয়র রেজাউল করিমকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
নগরীর বিভিন্ন সড়কে এরূপ ছোট-বড় গর্ত এবং সড়কে দুর্ভোগের চিত্র চসিকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনেন ভুক্তভোগীরা। পরে এসব নিয়ে উদ্যোগ নেয় চসিক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম নগরীর ৩২২টি সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সংগ্রহ করেছে চসিকের প্রকৌশল বিভাগ। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা করা হয়েছে।
চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বেবী সুপার মার্কেট থেকে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত, নগরীর ২ নম্বর গেট থেকে প্রবর্তক মোড়, ফতেয়াবাদ কলেজ রোড, আমানবাজার প্রধান সড়ক, ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ডের জামশেদ শাহ রোড, তুফানী রোড, শেরশাহ রোড, চন্দ্রনগর রোড, ৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের হাজীপাড়া প্রধান সড়ক, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের সামনের সড়ক, ৭ নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের সিটি ভিউ সুন্নিয়া মাদ্রাসার পেছনের রোড, আতুরারডিপো বাজার সড়ক, ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের চানমিয়া রোড, ১৯ নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের মিয়াখান ব্রিজ থেকে ইসহাকের পুল, হাজী আমিন হাজী রোড, ৩২ নং আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের লয়েল রোড, কেসি দে রোড, ৩৩ নং ফিরিংঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের ইয়াকুব নগর রোড, ৩৪ নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের বান্ডেল রোড, আশ্রাফ আলী রোড, ইকবাল রোড, ২৪ নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের হালিশহর রোড, হাজীপাড়া রোড, মৌলভীপাড়া রোড, ডিটি রোডসহ অন্তত ১০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই অনুসারে প্যাচওয়াক ও গর্ত ভরাট করার কার্যক্রম চলছে। এবার মানসম্পন্নভাবে সড়ক মেরামত ও সংস্কার করা হবে। কোনো ধরনের কারচুপি সহ্য করা হবে না।