× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তাড়াইলে পদ্মবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকের ভিড়

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:২৬ এএম

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৪:১২ পিএম

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দাঁড়ি জাহাঙ্গীর গ্রামের কাইনহা বিলের পদ্মফুলের সমারোহে দুই দর্শনার্থী। প্রবা ফটো

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দাঁড়ি জাহাঙ্গীর গ্রামের কাইনহা বিলের পদ্মফুলের সমারোহে দুই দর্শনার্থী। প্রবা ফটো

চোখ জুড়ানো সবুজ দিগন্ত বিল। সেখানে গাঢ় সবুজ পাতার মাঝে হালকা গোলাপি রঙের পদ্মফুলের উঁকি। কুঁড়িগুলো মাথা তুলেছে নতুন করে ফোটার আশায়। সবুজ পাতা আর গোলাপি পদ্মের মিলনমেলায় মনের আনন্দে নির্ভয়ে বিচরণ করছে পানকৌড়ি আর ডাহুক। ফুটন্ত পদ্মের মাথায় খেলা করছে প্রজাপতি আর ভ্রমরের দল। প্রকৃতির এমন প্রেমের আলিঙ্গনের নয়নাভিরাম অপরূপ দৃশ্যের দেখা মিলেছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দড়িজাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কাইনহা বিলে। এখন অবশ্য সবার কাছে এটি পদ্মবিল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

হালকা গোলাপি রঙের পদ্মফুলের সৌরভ ও সৌন্দর্য যেমন মানুষের মনকে আকর্ষণ করে তেমনি খাদ্য ও ঔষধিগুণে সমৃদ্ধ এ ফুল অনেক জনপ্রিয়। পদ্মফুল অনেকের কাছে আবার বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে গণ্য।

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদরের অদূরে ছায়া সুনিবিড় ছবির মতো গ্রাম দাঁড়ি জাহাঙ্গীরপুর। এ গ্রাম সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কাইনহা বিলের অবস্থান। বর্ষা ও শরৎকালে এ বিলের বুকজুড়ে দেখা দেয় পদ্মফুলের সমারোহ। বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল জন্মে। বর্ষা মৌসুমে এ বিলের চারদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গোলাপি রঙের পদ্ম। সঙ্গে রয়েছে সাদা পদ্ম। চোখ যত দূর যায় শুধু পদ্ম আর পদ্ম। 

সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা য়ায়, বিলের চারপাশে সবুজের সমাহার আর ফুটে থাকা অজস্র পদ্মফুল শোভা ছড়াচ্ছে দর্শনার্থীদের মাঝে। প্রতিদিন বিলে এসে ভিড় করছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমীরা। ডিঙি নৌকায় ভেসে জলের ছন্দের তালে তালে পদ্মফুল স্পর্শ করছেন। মন ভোলানো দৃশ্য দেখলে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। নয়নাভিরাম দৃশ্য ধরে রাখতে তুলছেন ছবি কেউ কেউ। 

পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দর্শক মামুন মিয়া বলেন, কাইনহা বিলের পদ্মফুল এবং পদ্মপাতা দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। বিলের বর্তমান দৃশ্যটি মানুষের মনে দাগ কাটার মতো। পদ্মফুল ও তার পাতা স্পর্শ করলে মনে হয় যেন সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে প্রবেশ করেছি। বিলের পদ্মফুলগুলো আশপাশের পরিবেশটাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সাদা-লাল রঙের পদ্মফুলের মাঝে সবুজ রঙের পদ্মপাতাগুলো পরিবেশটাকে অন্য রকম করে তুলেছে। 

ছেলে নিয়ে বিলে ঘুরতে এসেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পদ্মফুলের সৌন্দর্য দেখতে ময়মনসিংহ শহর থেকে এখানে এসেছি। চোখ যেদিকে যায় সেদিকেই শুধু পদ্ম আর পদ্ম। সত্যিই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। 

স্থানীয়রা জানান, এই বিলটিতে বর্ষাকালে অসংখ্য পদ্মফুল ফোটে। পদ্মফুল দেখার জন্য অনেক মানুষের সমাগম হয়। নৌকা দিয়ে বিলটি ঘুরে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক দর্শনার্থী মনের আনন্দে কিংবা ছবি তোলার জন্য ফুল ছিঁড়ছেন। অনেকে আবার ফুল ছিঁড়ে বাসায় নিয়ে প্রিয়জনকে উপহার দিচ্ছেন। এতে বিলটিতে পদ্মফুলের সংখ্যা দিনদিন কমে আসছে এবং বিলের সৌন্দর্যও বিনষ্ট হচ্ছে। 

সাধারণত পুরোনো গাছের কন্দ ও বীজের সাহায্যে পদ্মের বংশবিস্তার হয়ে থাকে। এভাবে যদি ফুল ছেঁড়া অব্যাহত থাকে, তাহলে পদ্মের বংশবিস্তার কমে যাবে এবং বিলটির অপরূপ সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় বিলটি সংরক্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

করিমগঞ্জ উপজেলা গুজাদিয়া থেকে ঘুরতে আসা রাজন মিয়া বলেন, পদ্মফুল দেখলেই ধরতে ইচ্ছা করে, ছুঁতে ইচ্ছা করে। বিলে যে পদ্মফুল পাওয়া যায় এটির প্রাকৃতিক দৃশ্য অসাধারণ। আমি সবাইকে অনুরোধ করবÑ যারা দর্শনার্থী যাবেন দয়া করে এই ফুল ছিঁড়বেন না, নষ্ট করবেন না। আমরা যদি প্রকৃতিকে ভালোবাসি। প্রকৃতির প্রেমে যদি নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই তাহলে এই প্রাকৃতিক সম্পদ আমরা নষ্ট করব না।

ঘুরতে আসা তরুণী জেবিন আক্তার জানান, যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও সুন্দর জায়গাটা। আসলে এর সৌন্দর্য বলে বোঝানো সম্ভব না। অন্য রকম এক ভালো লাগা কাজ করে। মন ভালো হতে বাধ্য আপনার।

বিলপাড়ে রয়েছে কয়েকটি ডিঙি নৌকা। এতে চড়ে বিলের মাঝে যাওয়া যায়। ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় আধাঘণ্টা ঘুরে বেড়ানো যায়। তবে নৌকায় দু-তিনজনের বেশি উঠতে পারেন না। স্থানীয় অনেকেই নৌকা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন। 

গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী করিম উল্লাহ প্রতিদিনের বাংলাদেশ কে বলেন, পদ্ম একটি জলজ উদ্ভিদ। ভারতীয় উপমহাদেশে সাধারণত তিন ধরনের পদ্মফুল দেখতে পাইÑ লাল পদ্ম, শ্বেত পদ্ম ও নীল পদ্ম। নীল পদ্ম যদিও দেখা যায় না বললেই চলে। সাধারণত নীল পদ্ম আমরা গল্প উপন্যাসে পেয়ে থাকি। একটা সময় আমাদের দেশে অনেক পদ্ম দেখা যেত। কিন্তু বর্তমান সময় বিল, জলাশয় ভরাট করে ফেলার কারণে পদ্মফুল বিলুপ্তির পথে। পদ্মফুল আমাদের জন্য অনেকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ঔষধিগুণসহ নানাভাবে গুরুত্ব বহন করে।

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন জানান, পদ্মবিলে শত শত পদ্মফুল ফুটতে দেখা যাচ্ছে। যেহেতু সম্প্রতি ফুল ফুটতে শুরু করেছে, সেহেতু এখন পর্যন্ত পদ্মফুল সংরক্ষণের জন্য কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় কি না সেটা বিবেচনা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা