কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৪৩ পিএম
আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:১৭ পিএম
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে বিএনপি ও ছাত্রদলের পরিচয় দেওয়া একদল দুর্বৃত্ত। শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের কেপিএম সিনেমা হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলায় আসামি জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আসা যুবদলকর্মী সোহেলের নেতৃত্বে একদল যুবক দুর্বৃত্ত প্রথমে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিমকে হাতুড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করে । খবর পেয়ে সহকারীরা তাকে বাঁচাতে গেলে তাদেরও মারধরসহ কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। কোপানোর পর হামলাকারীরা বাজারে মিছিল করে। এতে আতংকিত হয়ে ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
আহত চারজনই চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন ও কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এই ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া যুবদলকর্মী সোহেল হত্যা মামলার আসামি। বর্তমানে সে জামিনে বের হয়ে এলাকায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন মামুন বলেছেন, খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে গেছি। চন্দ্রঘোনা সিনেমা হল এলাকায় দুই দল ছেলেপেলের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। সেখানে গিয়ে দেখি মিছিলও করতেছে একটি পক্ষ। যারা মারামারি করেছে তারা আমাদের দলের কোনো পদে নাই।’ মিছিলকারীরা বিএনপির স্লোগান দিচ্ছিল কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিএনপি নেতা বলেন, ভাইরে, এখন দেখি সবখানে সবাই বিএনপি ! এমন অনেককে বিএনপির মিছিল করতে দেখতেছি, যাদের আমরাও চিনি না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ ইসলাম জানান, কেপিএম এলাকায় বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের একটি মারামারি ঘটনা শুনেছি। ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন বলেছেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, যার নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে সে এখন আমাদের দলের কোনো পদে নাই। আমরা যেকোনো হামলা ও নৃশংসতা, চাঁদাবাজিসহ সব অপকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যেই নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সাথে সাথেই বহিষ্কার করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’