পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:১৫ পিএম
রবিবার দুপুরে দেবীগঞ্জ ডোমার সড়কে কাঁচা চা পাতা ফেলে প্রতিবাদ জানান চাষীরা। প্রবা ফটো
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় চায়ের সবুজ পাতার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ ও চা চাষীদের হয়রানি বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারক লিপি প্রদান করেছে চা চাষীরা। এছাড়া আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলেও হুশিঁয়ারি দিয়েছেন তারা।
রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্র চা চাষীগণের ব্যানারে উপজেলার বিজয় চত্বর এলাকায় ডোমার সড়কের একপাশে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করা হয়। এতে দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক চা চাষী অংশগ্রহণ করেন। এসময় দেবীগঞ্জ ডোমার সড়কে কাঁচা চা পাতা ফেলে প্রতিবাদ জানান চাষীরা।
মানববন্ধন শেষে চা চাষীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে যান। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৮ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে চাষীদের আশ্বস্ত করেন। এছাড়া স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে ও স্বারকলিপি প্রদান করেন চা চাষীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- চা চাষী আবুল বাশার বসুনিয়া, আনোয়ার হোসেন বসুনিয়া, শাহিন আলম, আব্দুল লতিফ লিখনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ইংরেজরা যেমন নীল চাষে এদেশের চাষীদের রক্ত চুষে ছিল। তেমনি পঞ্চগড়ের চা-কারখানা মালিকসহ সিন্ডিকেট চক্রটি চা চাষীদের রক্ত চুষে খাচ্ছে। চাষীদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। চা পাতার দাম কর্তন করে চাষীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তৈরি চায়ের দাম বাজারে থাকলেও কাঁচা চা পাতা বিক্রির সময় চাষীরা নায্য দাম পান না। অনলাইন নিলাম কেন্দ্র হয়েও চাষিরা কোনভাবে উপকৃত হচ্ছেন না। অনেক চাষী আজ ঋণগ্রস্থ। ঋণের টাকায় চা বাগানের পরিচর্যা করছেন। কিন্তু কীটনাশকসহ শ্রমিক খরচই তারা তুলতে পারছেন না। অনেকে কারখানার মালিকদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে দাম না পেয়ে গাছ তুলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।
দাবিগুলো হলো- ক্ষুদ্র চা চাষীর উৎপাদিত চা পাতার সর্বনিম্ন মূল্য প্রতি কেজি ৪০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে; সকল প্রকার আমদানি বন্ধ করে রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে; ক্ষুদ্র চা চাষীদের জন্য ভূর্তকির আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্লাকিং মেশিন, উন্নত মানের কীটনাশক, উন্নত সেচ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সার সহ সকল সুযোগ সুবিধা ব্যবস্থা করতে হবে; ক্ষুদ্র চা চাষীদের মতামতের ভিত্তিতে নীতি মালা গ্রহন করতে হবে; পঞ্চগড়ের সকল উপজেলায় সরকারি ভাবে বড় আকারের চা প্রক্রিয়া জাত কারখানা স্থাপন করতে হবে; চা বাগানে সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে; ক্ষুদ্র চা চাষীর ক্ষতি হয় এরুপ সকল আইন পরিবর্তন করতে হবে; বেসরকারি কারখানা সমূহের ক্ষেত্রে পূর্বের নীতিমালা পরিবর্তন করে চাষীর সবুজ পাতার মূল্য ৭০ শতাংশ এবং কারখানার প্রক্রিয়াজাত খরচ বাবদ ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।