গাজী টায়ার কারখানায় আগুন
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:১২ পিএম
আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৯ পিএম
রবিবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের রূপসীতে অবস্থিত গাজী টায়ারস কারখানায় ছয়তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনদের নিয়ে গণশুনানি করেছেন উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত ৮ সদস্য কমিটি এ গণশুনানি করেন। তিন দফায় নিখোঁজদের নাম লিপিবদ্ধ করতে গিয়ে এবং নিখোঁজদের সন্ধানের দাবিতে স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সড়কের উভয়দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটে সৃষ্টি হয়।
নিখোঁজদের স্বজনরা জানান, গত ২৫ আগস্ট রবিবার রাতে গাজী টায়ার কারখানার ছয়তলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ভবনের ভেতরে বিভিন্ন এলাক প্রায় দুই শতাধিক লোকজন ঢুকে আটকা পড়ে যান। এরপর তাদের আর খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যর্থ হন ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন।
প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের কাছে ১৭৬ জন নিখোঁজদের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ করেন স্বজনরা। পরে ফায়ার সার্ভিস নিখোঁজের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ তালিকাটি অস্বীকার করেন। পরে দ্বিতীয় দফায় পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায় ছাত্র-ছাত্রীরা ১২৮ জন নিখোঁজের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ করেন। তৃতীয় দফায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত ৮ সদস্য তদন্ত কমিটি রবিবার সকালে গণশুনানির আয়োজন করেন। গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কমিটি আহ্বায়ক নারায়ণ জেলা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুর রহমান, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান মাহমুদ রাসেলসহ আরও অনেকে।
ওই শুনানিতেও নিখোঁজদের নামপরিচয় লিপিবদ্ধ শুরু করেন। প্রায় ৮০ জনের নাম পরিচয় লিপিবদ্ধ করার একপর্যায়ে নিখোঁজদের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। স্বজনরা তখন কমিটির সদস্যদের বলেন, ‘আপনারা আর কতবার নিখোঁজের নামপরিচয় লিপিবদ্ধ করবেন? যারা নিখোঁজ রয়েছে তাদের সন্ধান দিন। এরপর স্বজনরা কারখানার সামনের ঢাকা ছিলেন মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন এবং কমিটির সদস্যরা স্বজনদের বুঝিয়ে শুনিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। পরে নিখোঁজদের সন্ধানে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ওই ভবনে বেশ কয়েকজন স্বজন ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে বেশ কয়েকটি মাথার খুলি ও হাড়গোড় পায়।
রূপগঞ্জের মৈকুলি এলাকার রাহিমা বেগম সন্তানের সন্ধানে গণশুনানিতে এসেছেন। রাহিমা বেগম বলেন, ‘আমার পোলা সুজন শিকদারকে আইনা দেন। আমি তারে ছাড়া বাঁচুম না। আমার নাতি মিনহা ও মিনহাজের কি হইব। ওগো দেখব কেডা।’
১৭ বছরের ভাই নাহিদের জন্য অপেক্ষা করছেন বড় বোন সাথী আক্তার। গাজী টায়ার কারখানা ঢুকার পর আর খোঁজ নেই। ভাইয়ের সন্ধান চান সাথী আক্তার।
বোন লিপি আক্তার ও স্ত্রী আনোয়ারা বেগম আসেন নিখোঁজ আলামিনের সন্ধানে। গার্মেন্টস শ্রমিক আল-আমিনকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পাগলের মত হয়ে গেছে।
জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় অবস্থিত সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন রূপসি এলাকায় অবস্থিত গাজী টায়ার ফ্যাক্টরিতে দ্বিতীয় বারের মতো আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ আগস্ট রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফ্যাক্টরির ভেতরে থাকা ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনে আগুন লাগে। আগুন লাগার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, ‘অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনদের নিয়ে গণশুনানি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি দেখছেন। সান্তনা দিয়ে এবং বুঝিয়ে শুনিয়ে স্বজনদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’