স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ২২:৫৪ পিএম
উজিরপুরে সাবেক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯নং সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এমএ জলিলের জন্য সম্মাননার দাবিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় উজিরপুর উপজেলা এবং পৌর প্রেস ক্লাবে সাবেক উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বাদলের সভাপতিত্বে ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জাকারিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্রাম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন বাচ্চু ফকির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী গোলাম মোস্তফা, সাবেক জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মো. গোলাম সরোয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়নাল হক, উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান মাসুম, দপ্তর সম্পাদক মো. জুনায়েদ খান সিয়াম, উজিরপুর উপজেলা ও পৌর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির শরীফ প্রমুখ।
মেজর এমএ জলিল স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আব্দুর রহিম এই মহান বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীরউত্তম’ খেতাব দেওয়ার দাবি জানান।
মেজর এমএ জলিলের স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ বাদল বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী ৯নং সেক্টর কমান্ডার মহান দেশপ্রেমিক মরহুম মেজর এমএ জলিলের সম্মান ও সম্মাননার জন্য আমাদের বিভিন্ন দাবি রয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা-পরবর্তীতে এদেশ থেকে ভারতীয় বাহিনী কলকারখানার ও অস্ত্রপাতি লুটপট করার সময় তিনি বাধা প্রদান করেন। এতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান ক্ষিপ্ত হয়ে তার সেক্টর কমান্ডার খেতাব কেড়ে নেন। একই সঙ্গে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেননি।
তিনি বলেন, এ মহান মুক্তিযোদ্ধার সম্মানে আমাদের দাবি হলো- প্রস্তাবিত উজিরপুর-সাতলা সড়ক মরহুম মেজর এমএ জলিলের নামে নামকরণ করতে হবে। লেবুখালী ক্যান্টনমেন্টের (পটুয়াখালী) নাম মরহুম মেজর এমএ জলিলের নামে নামকরণ করতে হবে। বরিশাল বিমানবন্দরের নাম মরহুম মেজর এমএ জলিলের নামে নামকরণ করতে হবে। মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, মেজর এমএ জলিল উজিরপুর ও সারা দেশের সম্পদ। রাজনৈতিক কারণে তাকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে বাদ দিয়ে জাতিকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। রাষ্ট্র থেকে প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে যেসব ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সুবিধা নিচ্ছেন, তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়ে বিভিন্ন কোটায় সরকারি-বেসরকারি চাকরি করছেন তাদেরকে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ শক্তিশালী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার ইতিহাস সংরক্ষণ কমিটি করে তা প্রকাশ করতে হবে।