মনিরুজ্জামান বাবলু, চাঁদপুর
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১৮:০৪ পিএম
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মহজমপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পানের বরজ। শুক্রবার তোলা। প্রবা ফটো
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় প্রায় আড়াইশ একর জমির বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরজ থেকে পানি নিষ্কাশন করেও কিনারা পাচ্ছেন না কৃষকরা। কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগের পর ক্ষতিগ্রস্ত বরজ নিয়ে হতাশায় দিন কাটছে তাদের। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষিদের তালিকা করা হচ্ছে।
সরেজমিন উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে বরজের জলাবদ্ধতা চোখে পড়ে। চাষিদের চেষ্টার পরও দ্রুত সময়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এ ছাড়া বৃষ্টি এলে পানি আবার বেড়ে যায় বলেও জানান তারা।
উপজেলার উত্তর আলগী ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের চাষি আবু তাহের জানান, এ বছর ৪০ শতাংশ জমিতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে বরজ করেছেন। গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় দুটি পানের বরজ। এখন শ্রমিক নিয়ে পানি নিষ্কাশন করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বরজের ভবিষ্যৎ কী তা-ও বলতে পারছেন না।
একই গ্রামের হেনা আক্তার বলেন, ছয় মাস আগে আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১০ শতাংশ জায়গায় বরজ করি। বৃষ্টিতে গোটা বরজ তলিয়ে গেছে। এখন কী করব, জানি না।
চাষি সফিকুর রহমান বলেন, পান ও সুপারির আবাদ আমাদের উপজেলার ঐতিহ্য। আমার এক জমিতে বরজ ছিল। ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই বরজের কী হবে বুঝতে পারছি না। উপজেলার প্রায় ৭০০ কৃষকের এমন পরিস্থিতি।
উত্তর আলগী ইউনিয়নের চাষি শাহজাহান বলেন, কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বরজ করেছি। বৃষ্টিতে সব শেষ। পানগাছের গোড়া পচে গেছে। পানি নামলেও গাছ বাঁচবে না। কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব বলতে পারছি না। উপজেলা কৃষি অফিস থেকেও কেউ আমাদের খোঁজ নিচ্ছে না।
এদিকে বরজগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় পান ওঠানো যাচ্ছে না।
আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের বেপারি কাদের গাজী বলেন, পান নির্দিষ্ট সময়ে বড় হলে বিক্রি করেন চাষিরা। কিন্তু দুর্যোগ মুহূর্তে এখন কিছুই করার নেই।
হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার বলেন, উপজেলার ১১৯ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির পান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পান চাষে জড়িত ১ হাজার ৭২ কৃষক। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাব। কৃষকদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে না এমন অভিযোগ সঠিক না। প্রণোদনা এলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।