টেকনাফ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ১৩:২১ পিএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ১৫:২৩ পিএম
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছে টেকনাফ সীমান্ত। প্রবা ফটো
মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্রতর হয়ে উঠেছে। একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ভূমিকম্পন সৃষ্টি হচ্ছে। জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্কও। এ অবস্থায় সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি নাফ নদে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড বাহিনী।
সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা জানায়, টানা কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার রাতে শুরু হয় দুই পক্ষের এ যুদ্ধ। সোমবার বিকাল ৫টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া বুধবার রাতে আরাকান আর্মি মংডু টাউনশিপের আশপাশের পাঁচটি এলাকা সুধাপাড়া, মংনিপাড়া, সিকদারপাড়া, উকিলপাড়া, নুরুল্লাপাড়া দখল করে নেয়। মর্টার শেল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে গ্রামগুলো থেকে লোকজন উচ্ছেদ করা হয়। তাতে অনেকে হতাহত হয়। গভীর রাত থেকে আরাকান আর্মি মংডুর টাউনের অভ্যন্তরে থাকা সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির পৃথক দুটি ব্যাটালিয়ন ঘেরাও করে রেখেছে বলে জানা গেছে। সেনা ও বিজিপি সদস্যরা আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ করে ছুড়ছে মর্টার শেল, আর্টিলারি ও মিসাইল।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানান, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়ছে আরাকান আর্মি। ইতোমধ্যে আরাকান আর্মি মংডু টাউনশিপের আশপাশে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ২৫টি সীমান্তচৌকি, রাচিডং-বুচিডং টাউনশিপের বেশ কয়েকটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি দখলে নিয়েছে। মাসখানেক ধরে মংডু টাউন এবং পাশের পাঁচটি গ্রাম সুধাপাড়া, মংনিপাড়া, সিকদারপাড়া, উকিলপাড়া, নুরুল্লাপাড়া দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে আরাকান আর্মি। গ্রামগুলো রোহিঙ্গা অধ্যুষিত। গ্রামগুলোর বিপরীতে (পশ্চিমে) নাফ নদের এপারে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার বাসিন্দার আবদুর রহমান বলেন, ‘যেভাবে হঠাৎ মিয়ানমারের ওপারে থেমে থেমে বোমার বিকট শব্দে কাঁপছে আমার বাড়ি। এ রকম শব্দ কোনো দিন শুনি নাই। মনে হয়েছে আমার বাড়ি ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। আতঙ্কে ঘুমাইতে পাচ্ছি না।‘
টেকনাফ পৌরসভার কুলালপাড়ার বাসিন্দা আবদুল শুক্কুর বলেন, ‘বুধবার রাতে মিয়ানমারের ওপারে যেভাবে মর্টার শেলের শব্দ হয়েছিল মনে করেছিলাম ভূমিকম্পে বাড়িঘর ভেঙে যাচ্ছে। বজ্রপাতের মতো বিকট শব্দ হয়েছে।’
সাবরাং সিকদারপাড়ার বাসিন্দা আলী হোসাইন বলেন, ‘এমন বিকট শব্দ আগে কখনও শুনিনি। গভীর রাতে মিয়ানমারের গোলাগুলির শব্দে বাড়ির ভিতরে পর্যন্ত থাকা যাচ্ছে না। ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। মনে হচ্ছিল মর্টার শেল নিজের বাড়ির ত্রিসীমানায় বিস্ফোরণ হচ্ছে।’
সাবরাং ইউপি সদস্য সিদ্দিক আহম্মদ বলেন, ‘বুধবার মধ্যরাতে এমনভাবে বিকট শব্দ হয়েছে মনে হয় বিল্ডিং ভেঙে পড়ছে। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কম তাই আমরা তাদের গোলাগুলির শব্দে ঘুমাতে পারছি না।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে কাউকে অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। অনুপ্রবেশের সময় বেশকিছু রোহিঙ্গাকে নাফ নদ থেকে পুনরায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’