কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৪ ২০:৪৬ পিএম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪ ২১:৫১ পিএম
তিতাগ্রাম জামিয়াতুচ্ছুন্নাহ ফজলুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। প্রবা ফটো
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক মাদ্রাসার শিক্ষককে ফাঁদে ফেলে জরিমানা আদায় এবং জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৬ (আগস্ট) রাতে উপজেলার শিবপুর-জাঙ্গালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম মো. রিয়াদ হোসাইন। তিনি উপজেলার তিতাগ্রাম জামিয়াতুচ্ছন্নাহ ফজলুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক। বিয়য়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্ঠি হয়।
তবে অভিযুক্ত মাদ্রসার শিক্ষক মো. রিয়াদ হোসাইনের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে তার কোনো প্রেম বা সম্পর্ক ছিল না। তিনি যড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে জানান।
শিবপুর মসজিদের ইমাম মো. বদরুল আলম এবং তিতাগ্রাম জামিয়াতুচ্ছুন্নাহ ফজলুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষা সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা জানায়, কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে শিক্ষক রিয়াদ মোবাইল ফোনে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এমন অভিযোগে ওই গৃহবধূর স্বামী তাকে দিয়ে মোবাইলে কল করে ওই শিক্ষককে তাদের বাড়ির কাছে আসতে বলেন। পরে কল পেয়ে শিক্ষক রিয়াদ গভীর রাতে ওই বাড়ির সামনে গেলে ওই নারীর স্বামীর বাড়িতে আসার পথে কয়েকজন লোক নিয়ে তার গতিরোধ করে লোক জড়ো করে। সেখানেই বিচার বসায় ওই নারীর স্বামী। বিচারে তাদের প্রতিবেশীসহ কয়েকজন অংশ নেয়।
তারা আরও জানায়, বিচার কাজে সেখানেই ওই শিক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১০টি জুতাপেটা করার আদেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় মো. আসাদ শেখ এবং মো. ওয়াহিদুল ইসলাম শেখ ওই শিক্ষককে জুতাপেটা করে সালিশের রায় বাস্তবায়ন করে। এ সময়ে উপস্থিত রাখা হয় শিবপুর মসজিদের ইমাম মো. বদরুল আলম এবং তিতাগগ্রাম জামিয়াতুচ্ছুন্নাহ্ ফজল্লুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মো. আবদুল্লাহকে।
অভিযুক্ত মাদ্রসার শিক্ষক মো. রিয়াদ হোসাইন বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। ওই গৃহবধূর ননদ আমাদের মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে তাই ফোন দিলে আমি তাদের বাড়িতে যাচ্ছিলাম। তবে প্রেমঘটিত কোনো সম্পর্ক ছিল না।’
সালিশিতে উপস্থিত ইমাম মো. বদরুল আলম ও তিতাগ্রাম জামিয়াতুচ্ছুন্নাহ ফজলুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষা সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রাতে ওই নারীর স্বামী ও তার লোকজন আমাদের ফোন করে ডেকে আনে। আমরা কোনো প্রকার ভূমিকা রাখিনি। আমাদের কথাও কেউ শোনেনি।
ইউপি সদস্য মোরাদ হোসেন জানান, বিষয়টি আইন পরিপন্থি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। তবে আমি পরে লোকমুখে শুনেছি।
এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমানের সরকারি নম্বরে কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভি করেননি। পরে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।