রাসেল মাহমুদ, বরগুনা
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৪ ১৫:৩২ পিএম
বরগুনা সদর উপজেলার লাকুরতলা-ফুলঝুড়ি সড়ক। প্রবা ফটো
মোরা রাস্তায় না, চলাচল করি সাগরের
ঢেউয়ের মধ্যে। রাস্তায় গাড়ি চালালে মনে হয় সমুদ্রের ঢেউয়ে পড়েছে। কত এমপি পরিবর্তন
হয়, চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয়, মোগো কপাল আর পরিবর্তন হয় না। মাঝে মাঝে রাস্তা মাইপ্পা
যায়, কেউ রাস্তা ভালো কইরা দেয় না। ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন চালিতাতলী এলাকার
মিরাজ মিয়া।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির
আওতায় বরগুনা জেলায় ৪৭৭ কিলোমিটার সড়ক চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পিচ-খোয়া
উঠে গিয়ে গর্তে পরিণত হয়েছে। এসব জায়গায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমায় চরম দুর্ভোগের
শিকার হচ্ছে মানুষ ও যানবাহন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার রোগী ও স্কুলগামী শিশুরা।
এসব সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পণ্য পরিবহন তো দূরের কথা, মানুষ চলাচলেরই
অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অধিকাংশ সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো তাই দ্রুত মেরামতের দাবি স্থানীয়দের।
অন্যদিকে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, বরাদ্দ সংকটে মেরামত হচ্ছে না এসব ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক।
বরগুনা জেলার ৬টি উপজেলায় এলজিইডির
(স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) আওতায় ৬ হাজার ৩৪৩ কিলোমিটার কাঁচাপাকা সড়ক রয়েছে।
এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, পাকা সড়কে প্রতি অর্থবছরে অন্তত তিন ভাগের এক ভাগ মেরামত করা
প্রয়োজন হয়। সে অনুযায়ী ১ হাজার ৪৩০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এ অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ৪৭৭
কিলোমিটার মেরামত করতে হবে। তাদের হিসাবে (এলজিইডি) প্রতি কিলোমিটার সড়ক মেরামত করতে
৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। সে অনুযায়ী ৪৭৭ কিলোমিটার মেরামত করতে ব্যয় হবে ৩১০ কোটি ৫ লাখ
টাকা।
কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরগুনা জেলায়
সড়ক মেরামতের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা, যা প্রয়োজনের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৯ ভাগ।
তাই এ অর্থবছরে জেলার ৪৭৭ কিলোমিটার খানাখন্দ সড়কের মাত্র ৩৮ কিলোমিটার মেরামত করা
সম্ভব হবে। বাকি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অর্থের অভাবে মেরামত করা সম্ভব হবে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার
লাকুরতলা-ফুলঝুড়ি ভায়া বাওয়ালকর ১৬ কিলোমিটার সড়ক। অন্তত ৫ বছর আগে থেকে খানাখন্দ।
এ সড়কটি দিয়ে কয়েকটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার
মানুষের যাতায়াত। কিন্তু বর্তমানে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। প্রতিনিয়ত
ঘটছে দুর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার রোগী ও নারী-শিশুরা।
খাজুরতলা এলাকার অটোচালক নাঈম বলেন,
লাকুরতলা-ফুলঝুড়ি রাস্তা দিয়া প্রত্যেকদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। অটোরিকশায়
যাইতে গিয়া প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকের হাত-পাও ভাইঙ্গা হাসপাতালে যাওয়া লাগছে। অটোরিকশায়
প্রায়ই ভেঙে যায়। গর্ভবতী নারী এই সড়ক দিয়া নিয়ে গেলে হাসপাতালে যাওয়া লাগে না, রাস্তায়ই
সন্তান প্রসব করবে।
তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া গ্রামের
বেলাল হোসেন মিলন বলেন, আমার বাড়ির সামনের রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ। যানবাহন
চলাচল দূরের কথা, হাঁটতেই কষ্ট হয়। রাস্তাটি মেরামতের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কাছে
একাধিকবার গেলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বরগুনার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মুসফিক
আরিফ বলেন, বরগুনা জেলার সড়ক মেরামতে বরাদ্দ অনেক কম। যে কারণে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ যতই
মেরামত করুক, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক কমছে না। তাই সমবণ্টনের পাশাপাশি উপকূলীয় জেলা হিসেবে
সড়ক মেরামতে বেশি বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী
মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৮০ কোটি টাকার স্কিম তৈরি করে
বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে
যতগুলো সম্ভব সড়ক মেরামত করা হবে। অন্যথায় যা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, সেই টাকা দিয়ে অগ্রাধিকার
ভিত্তিতে সড়ক মেরামতের কাজ করা হবে।