নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৪ ১১:২৯ এএম
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪ ১১:৩৯ এএম
শুধু বৃষ্টি নয়, বজ্রসহ বৃষ্টি। তাতে বেড়েই চলেছে বন্যার পানি। অতিবৃষ্টিতে নোয়াখালীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি। এতে আতঙ্ক বাড়ছে পানিবন্দি ও বানভাসিদের।
জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানিতে নোয়াখালীতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ডুবে আছে বসতঘর ও সড়ক। নোয়াখালীর আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নের ২০ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। ১ হাজার ১৬৯ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার মানুষ। প্রধান সড়কের আশপাশে সহযোগিতা পেলেও প্রান্তিক অঞ্চলগুলোয় পৌঁছায়নি ত্রাণসহায়তা। ফলে অধিকাংশ জায়গায় দেখা দিয়েছে ত্রাণের জন্য হাহাকার।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর আট উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষের মধ্যে সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশুখাদ্য ও ৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা শহরের বাসিন্দা মো. আবদুর রহিম বাবুল বলেন, ‘নোয়াখালীর মাইজদীতে রাত থেকে বজ্রসহ ভারী বর্ষণ হচ্ছে। এতে পানি আরও ৬ ইঞ্চি বেড়ে গেছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে। আল্লাহ সহায় হোন।’
সুবর্ণচরের বাসিন্দা নুর আলম সিদ্দিক বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অল্প কিছু এলাকায় পানি কমছে তা-ও খুবই ধীরগতিতে। এখনও তলিয়ে আছে পথঘাট, ঘরবাড়িতে পানি থাকায় এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে আছে মানুষ। তবে খাবার সংকট রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম গ্রামীণ এলাকা যেখানে নৌকা ছাড়া যোগাযোগ করা যায় না সেখানে কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি।’
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার দিনে বৃষ্টি হয়নি। কেবল রাতে হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেজন্য কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে । আবার কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা জেলা প্রশাসন কাজ করছি৷ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গম এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে সহায়তা আসছে। বিভিন্ন এলাকার মানুষ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। বৃষ্টি না হলে আমাদের বন্যা পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হবে।’