কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৪ ২২:১২ পিএম
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৪ ২২:১৩ পিএম
ত্রাণ সামগ্রি পৌঁছে দিয়ে প্রশংসা পাচ্ছেন একই ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুফতি নুরুল্লাহ খালেদ। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের বন্যা কবলিত এলাকা কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন। জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এটি। এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানিবন্দিদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রি পৌঁছে দিয়ে প্রশংসা পাচ্ছেন একই ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুফতি নুরুল্লাহ খালেদ। তিনি স্থানীয় উপজেলার সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহর ছেলে।
এ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি শুরু থেকেই অবনতির দিকে। বানভাসি মানুষের সহায়তা নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ও অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী যুবকরা। সবাই নিজ উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মানবতার সেবায়।
এক্ষেত্রে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরকাদিরা ইউনিয়নকে ওয়ার্ডভিত্তিক ভাগ করে বিভিন্ন টিমের মাধ্যমে বন্যাকবলিতদের আশ্রয়, নিরাপত্তা, খাবার ও ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছেন মুফতি নুরুল্লাহ। ত্রাণ সামগ্রি ও স্বেচ্ছাসেবক টিমগুলোর দিক নির্দেশনা মূলক নিয়ন্ত্রণ করছেন এই তরুণ জনপ্রতিনিধি।
নুরুল্লাহ খালিদ বলেন, ‘আমরা বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ ইবাদত মনে করে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রেখেছি। এ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরকাদিরা ইউনিয়ন। এ অঞ্চলের মানুষ আমাদেরকে অন্তর থেকে মহব্বত করেন। তাই এ ইউনিয়নবাসীর খবর রাখা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাছাড়া আমি বা আমার বাবা যাহা করতেছি, সবগুলো আমরা ইবাদতের নিয়তেই করছি। অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।’
স্থানীয়রা জানায়, বন্যার্তদের সহায়তায় বাবা-ছেলের এমন কর্মকাণ্ড গোটা ইউনিয়নবাসীর মনে সাড়া যুগিয়েছে। এ দুর্যোগ মুহুর্তে দু'জন আলেম স্মরণীয় হয়ে থাকবেন জনগণের মনিকোঠায়।
জানা যায়, বানভাসি মানুষের খাবারের জোগান প্রথমে তাদের ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে সরবরাহ দিয়েছেন। পরে আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও চাঁদপুর থেকে তাদের বন্ধু, সহকর্মীরা বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে যে যতটুকু পারছেন, সহায়তা করে যাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনও সম্ভব সহায়তা ও দেখভাল করছেন। নুরুল্লাহ খালিদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও কর্মী বাহিনী দেখে সবাই তার মাধ্যমে এসব ত্রাণ বিতরণ করতে আগ্রহী হয়ে পড়েন। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ত্রাণগুলো তাদের জিম্মায় দিয়ে যাচ্ছেন সবাই। প্রতিদিনই তার নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক দল ছুটে যাচ্ছেন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। পাশাপাশি ওই এলাকার সামাজিক গণ্যমান্য ও তরুণ যুবকদেরকে টিমওয়ার্ক করে তাদের মাধ্যমেও এসব ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করছেন। এতে বন্যাকবলিত অঞ্চলের মানুষগুলোর কষ্ট অনেকটা লাঘব হচ্ছে।
চরবসু এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. দিদার হোসেন জানান, সোমবার রাতে মুফতি নুরুল্লাহ খালেদের সরবরাহ করা খিচুড়ি পরিবেশন করা হয়। নারী ও শিশুসহ প্রায় ৪০০ মানুষ ওই কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।