ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৪ ১৭:১৫ পিএম
নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুরাদ। প্রবা ফটো
পারিবারিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ঢাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পিয়ারাখালি জামতলা এলাকার মুরাদ হোসেন (৪০)। স্বপ্ন ছিল ঈশ্বরদীতে ফিরে নিজ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্ট খুলে ব্যবসা করবেন। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এর পর থেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৩৭ দিন পার হলেও মুরাদের জ্ঞান ফেরেনি, বেঁচে থাকলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চলমান চিকিৎসা ব্যায় বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় মুরাদের পরিবারের রয়েছে চরম উদ্বিগ্নে, চাচ্ছেন সরকারি সহায়তা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন মুরাদ। এতে তার গলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও স্পাইনালকড ড্যামেজ হয়ে গেছে। নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের আইসিউ থেকে সম্প্রতি তাকে পোস্ট অপারেটিভ-২ এর ১৮ নম্বর বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই নিবিড় চিকিৎসা চলছে।
নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক রেজাউল করিম জানান, গুলিবিদ্ধ মুরাদের শরীর থেকে দুটি গুলি বের করা হয়েছে, তার স্পাইনালকড অকেজো হয়ে শরীর প্যারালাইজড হয়ে গেছে, সুস্থ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবনে তার ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
মুরাদের স্ত্রী মহুয়া বলেন, ‘দুটি সন্তানসহ পুরো পরিবার অনিশ্চয়তায় ভুগছি। আমরা কিভাবে বেঁচে থাকব তার কোনো উপায় দেখছি না।’
মুরাদের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৮ জুলাই রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন আমার ছেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। রেস্টুরেন্টে চাকরি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে মুরাদের সংসারটা চলত কোনোমতে। জমানো কোনো টাকা ছিল না। এই এক মাসে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের সহায়তায় চিকিৎসা চলেছে। ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এখনও প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ছেলেমেয়ে দুটির পড়ালেখাও বন্ধ। সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে অন্তর্বতী সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।