নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৪ ১৭:০৫ পিএম
নোয়াখালীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি। প্রবা ফটো
টানা বৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা উজানের পানিতে নোয়াখালীতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রধান সড়কের আশপাশে সহযোগিতা পেলেও প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে পৌঁছায়নি ত্রাণ সহায়তা। সেখানে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকট। স্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি ক্ষুধার্ত অধিকাংশ শিশু। ফলে অধিকাংশ জায়গায় দেখা দিয়েছে ত্রাণের জন্য হাহাকার।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর ৮ উপজেলার ৮৭ ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ২০ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। ১১৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন দুই লাখ ১৬ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার গো খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে আটটিতেই বন্যার পানি বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জেলার সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, সদর, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বন্যার পানি। এসব উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় সরকারি–বেসরকারি কোনো ত্রাণই এখন পর্যন্ত পৌঁছায়নি। ফলে বন্যার্ত মানুষ সীমাহীন কষ্টে দিনযাপন করছেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয় কৃষ্ণরামপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় নিয়েছেন বিধবা হোসনে আরা। তিনি বলেন, এখানে থাকার মতো ঘুমাইবার মতো অবস্থা আমাদের নাই। আল্লাহ আমাদের এভাবে রাখসে। একটা কাপড় একটা জামা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আইসি। আমার সামার্থ্য নাই ঘরবাড়ি করার। ছেলেরাও গরিব। কিচ্ছু করতে পারবেনা তারা।
সাহেরা খাতুন নামের আরেকজন বলেন, রোডে-ঘাটে (রাস্তায়) পানি, আমাদের স্বামীরা কর্ম করতে পারেনা। আমরা এখন আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। অনেক কষ্ট করতে আসি। কেউ খোঁজ খবর নেয় না। আমরা এখন কিভাবে বাঁচবো জানিনা। আমরা সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতা চাই। অনেকে সহায়তা পায় শুনি কিন্তু আমরা চোখে দেখি না। আমরা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে উপাস থাকি। কোনো উপায়ে আমরা সাহায্য পাই না। কেউ যদি আমাদের সাহায্য করে আমরা খুশি হবো।
বন্যা না কমলে সব শেষ হয়ে যাবে উল্লেখ করে বৃদ্ধা শাহ আলম বলেন, এত পানি আমি ৭০ সালেও দেখি নাই। ২০২৪ সালে পানি আর পানি। আমাদের ঘর বাড়ি সব ডুবে গেছে। যদি বন্যা না কমে, আমাদের ঘর বাড়ি সব উল্টে যাবে।
বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিটা ইউনিয়নে সচিবদের সঙ্গে ছাত্রদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা দুর্গত এলাকা গুলোতে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়াও অনেককে ব্যক্তিগতভাবে এসে ত্রান দিয়ে যাচ্ছেন সে হিসাব গুলো আমাদের কাছে নেই। তবে যারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন আমরা প্রতিটা ইউনিয়ন অনুযায়ী তা বন্ধন করছি। তাছাড়া যদি কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করে সে সবগুলো আমরা লিখে রাখছি এবং আমরা খাদ্য সরবরাহ করছি।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রথমে আমাদের খাবারের একটু সমস্যা ছিল। এখন আমাদের শুকনো খাবার পর্যাপ্ত পাচ্ছি এবং বিভিন্ন সংস্থা আসছে, ব্যক্তিগতভাবে অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসছে। তাছাড়া সরকারি ভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৫ লাখ টাকার গো খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।