× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গাজী টায়ার কারখানায় আগুন

‘আর বেঁচে থাকা সম্ভব না, পারলে আমাকে বাঁচাও’

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৪ ২১:১০ পিএম

গাজী টায়ার কারখানায় আটকে পড়া পাহারাদার শাহ আলম মিঝির খোঁজে তার স্ত্রী স্ত্রী শারমিন বেগম এবং ছোট ভাই মোস্তফা মিঝি। প্রবা ফটো

গাজী টায়ার কারখানায় আটকে পড়া পাহারাদার শাহ আলম মিঝির খোঁজে তার স্ত্রী স্ত্রী শারমিন বেগম এবং ছোট ভাই মোস্তফা মিঝি। প্রবা ফটো

চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণের কালিকাপুর এলাকার জাফর আলী মিঝির ছেলে শাহ আলম মিঝি। তিন বছর আগে পাহারাদার হিসেবে নিয়োগ পান গাজী টায়ার কারখানায়। এরপর থেকে তিনি এই কারখানায় কাজ করে যাচ্ছেন।

রবিবার (২৫ আগস্ট) বিকালে ওই কারখানায় দুর্বৃত্তদের হামলা এবং রাতে আগুনের ঘটনায় ভবনটিতে আটকা পড়েন তিনি। রাত তিনটায় সর্বশেষ স্ত্রী শারমিন বেগমকে ফোন করেন শাহ আলম। স্ত্রীকে বলেন, ‘ধোঁয়ায় কিছু দেখতে পারছিনা, পারলে আমাকে বাঁচাও।’

স্ত্রী শারমিন বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘গত রবিবার সকালে কারখানার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। দুপুরে বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া করে আবার গাজী টায়ার কারখানায় চলে যান। সন্ধ্যায় শাহ আলম জানান, একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে তারা নিচ থেকে সাটার নামিয়ে সব কিছু বন্ধ করে দেয়।

সর্বশেষ রাত তিনটায় আমার স্বামী ফোন করে আমাকে জানায়, ‘আর বেঁচে থাকা সম্ভব না, পারলে আমাকে বাঁচাও।’ এরপর থেকে আর ফোনে পাইনি। আল্লাহ ভালো জানেন কি অবস্থায় আছেন, মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে কি করব কোথা যাব বুঝতেছিনা।’

নিখোঁজ শাহ আলম মিঝির ছোট ভাই মোস্তফা মিঝি বলেন, ‘আমার বড় ভাই এ কারখানায় তিন বছর ধরে কাজ করছেন। গতকাল কাজে যোগ দিয়েছেন। রাত তিনটায় তিনি বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছিলেন।’

নিখোঁজদের সন্ধানে সকাল থেকেই স্বজনরা ভিড় করছেন গাজী টায়ার কারখানার আগুন লাগা ভবনের সামনে। স্বজনরা সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের কাছে ১৭৬ জনের নামের তালিকা দিয়েছেন।

দরিকান্দি এলাকার শিল্পী আখতার বলেন, ‘আমার বোন শেফালী আক্তার ও বোনজামাই শহিদুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর তাদের দুই সন্তান তৌফিকুর রহমান স্বাধীন ও সাহাব রহমানকে আমরা কোলেপিঠে করে মানুষ করছি। তৌফিকুর রহমান স্বাধীন বন্ধুদের সঙ্গে আগুন লাগা ভবনে ঢুকে আর বের হতে পারেনি। তারা এখনো নিখোঁজ। তাদের না পেয়ে আমার বৃদ্ধ মা আমেলা খাতুন পাগলের মত বিলাপ করছে।

রূপসী কলাবাগান এলাকার জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে রাব্বি ও তার বন্ধু জিহাদকে নিয়ে গাজী টায়ার ফ্যাক্টরিতে ঢোকার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। তাদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার ছেলেকে আপনারা এনে দেন।’

মুড়াপাড়া এলাকার আব্দুল হাই বলেন, ‘আমার দুই সন্তান। বড় সন্তান শাকিল সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। সে অবসর সময়ে একটি চায়ের দোকানে কাজ করে আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। সেই সন্তানটা আগুনে পোড়া ভবনের গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে।’

বরপা বাগানবাড়ি এলাকার মা নাজমা বেগম ছেলেকে না পেয়ে পাগলের মত হয়ে গেছেন। নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজতে ওই টায়ার কারখানায় গিয়ে সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ছেলে আবু বক্কর একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে।

সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আমপার এলাকার জাকির হোসেন তার ছোট ভাই মনির হোসেনকে হারিয়ে প্রায় পাগল। রবিবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে টায়ার ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে আর ফেরেনি। মনির হোসেনের হাতের আঙ্গুলে একটি রূপার আংটি রয়েছে। সবার কাছে মিনতি করছে ভাইয়ের কঙ্কালটাও যদি পাওয়া যায় আংটি থেকে বোঝা যাবে। পরিবারের লোকজন পাগলের মত হয়ে গেছে।

ইউসুফ তার ভাতিজা মজনুকে খুঁজতে ভবনটির সামনে অপেক্ষা করছেন। রাতে কারখানায় প্রবেশ করে মালামাল আনতে গিয়ে আর ফেরেনি মজনু। তারা ধারণা করছেন, ওই ভবনে আটকা পড়েছেন মজনু। মজনু গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার দিগলকান্দি এলাকার আমির হোসেনের ছেলে। পাশের একটি ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন মজনু।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় অবস্থিত সাবেক পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন রূপসী এলাকায় অবস্থিত গাজী টায়ার ফ্যাক্টরিতে দ্বিতীয়বারের মতো আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গত রবিবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফ্যাক্টরির ভেতরে থাকা ৬তলা বিশিষ্ট একটি ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় সোমবার (২৬ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা