অবৈধ বালু উত্তোলন
মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৪ ১৮:০২ পিএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৪ ১৮:১১ পিএম
বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুই দিনে তিনটি ড্রেজার জব্দসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
এর মধ্যে রবিবার (২৫ আগস্ট) বিকালে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইকুরদিয়া সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনের সময় দুটি ড্রেজারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন, পূর্ব অষ্টগ্রামের শেখরহাটির মেনু মিয়ার ছেলে নয়ন মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কদমতলী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে তাবারক হোসেন, ইদ্রিস মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া, বরকত হোসেনের ছেলে কাসেমমিয়া, গোপালনগর গ্রামের শাহাদুজ্জামানের ছেলে রিয়াদ মিয়া এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রামগাতি উপজেলার সুলাইমান মিয়ার ছেলে শামীম মিয়া।
এর আগে শনিবার (২৪ আগস্ট) উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের বাঘাইয়া ও নোয়াগাঁও গ্রামের মধ্যবর্ত্তী মেঘনা নদী থেকে একটি ড্রেজার জব্দসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা দরবেশ মিয়ার ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (৪০), সোনারুহাটির বাচ্চু মিয়া ছেলে সারুফ মিয়া (৩৮), দেওঘর ইউনিয়নের কাগজীগ্রামের হাছেন আলীর ছেলে বুলবুল আহমেদ (৩৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার ধানতলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে নিহা আলম (২৪) এবং নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামের সৈয়দ মিয়ার ছেলে সাহেব জামাল (৪০)।
এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ ও ১০-১২ জন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ মেঘনা নদীতে তিনটি ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তাররা জানান, সভাপতি সাঈদের ‘প্রধান সেনাপতি’ খ্যাত উপজেলা বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আকসার মিয়ার নেতৃত্বে এসব বালু উত্তোলন করা হয়। এতে, নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও ফসলি জমিতে ভাঙন দেখা দেয়। বিপন্ন হচ্ছে মৎস্য সম্পদ, হুমকির মুখে হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য। প্রভাবশালী এই বালু দুর্বৃত্ত চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মুখ খুলতে ভয় পায়।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি কখনও এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। সবই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা। আমি এসব ষড়যন্ত্রের নিন্দা জানাই।’
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে জানান, গত শনি ও রবিবার ৩টি ড্রেজার জব্দসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে তাদের কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।