উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪ ১১:৪০ এএম
প্রতীকী ছবি
বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস হাওলাদার ও তার চাচাতো ভাই সাগর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৪ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলায় সাতলা বাজার এলাকার বড় ব্রিজের পশ্চিম পাড়ের ঢালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইদ্রিস হাওলাদার পশ্চিম সাতলা গ্রামের সোহরাব হাওলাদারের ছেলে ও সাগর হাওলাদার একই বাড়ির শাহাদাত হাওলাদারের ছেলে।
নিহতদের আত্মীয় পূর্ব সাতলা ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, রাত ১১টার দিকে ব্যবসায়ী ইদ্রিস হাওলাদার তার চাচাতো ভাই সাগর হাওলাদাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সাতলা বড় ব্রিজের পশ্চিম পাড়ের ঢাল অতিক্রম কালে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে ইদ্রিস ও তার চাচাতো ভাই সাগরকে এলোপাথরি ভাবে কুপিয় জখম করে। দূবৃর্ত্তরা ব্যবসায়ী ইদ্রিসের মূত্যু নিশ্চিত ভেবে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তাদের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাত পৌনে ২টার দিকে ব্যবসায়ী ইদ্রিস মারা যান। আর গুরুতর আহত সাগর হাওলাদার রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ বিষয় নিহতদের চাচা সাবেক ইউপি সদস্য মোনাফছের হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, সাতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ও তার চাচাতো ভাই যুবলীগ নেতা আসাদ হাওলাদারের নেতৃত্বে ও নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত ১৭ মার্চ গভীর রাতে ইদ্রিস হাওলাদারের মালিকানাধীন মাছের ঘের, মুরগির খামার, পানি শেচ পাম্পে অগ্নি সংযোগ এর ঘটনায় ইদ্রিস হাওলাদার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহীন হালদারের ও তার চাচাতো ভাই আসাদ হাওলাদারসহ ৪০-৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় শাহীন চেয়ারম্যানকে জেল খাটতে হয়। তার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একটি মাছের ঘের নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এই জোড়া হত্যাকান্ড সংঘটিত হতে পারে বলে প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা ও মামলা প্রস্তুতি চলছে। নিহতদের মরদেহ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।