জয়পুরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২২ ২০:৫১ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২ ২১:৪৬ পিএম
গ্রেপ্তারের পর সিপাহী হযরত জাকারিয়া। প্রবা ফটো
জয়পুরহাটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহী নেপাল দাস গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক সিপাহীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তার সিপাহীর নাম হযরত জাকারিয়া। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যার)-৫ ও ১৩-এর যৌথ অভিযানে জাকারিয়াকে প্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রবিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, ‘হযরত জাকারিয়া দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন বিজিবির আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।’
নেপাল দাস নিহতের ঘটনায় জয়পুরহাট থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তার শেষকৃত্য ইতোমধ্যে তার গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়েছে।
নেপাল দাসের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কয়েকটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানায়, এ ঘটনায় সিপাহী হযরত জাকারিয়া পলাতক ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, জাকারিয়াই নেপাল দাসকে গুলি করে হত্যা করেছেন। জাকারিয়ার লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দা।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নেপাল দাসকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তিনি বিজিবির পোশাক পরা ছিলেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক নেপাল দাসকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে ওই হাসপাতালেই নেপাল দাসের ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার দুপুরে বিজিবি-২০ জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল ইসলাম নেপাল দাসের মরদেহ নেপালের বড় ভাই গোপাল দাসের কাছে হস্তান্তর করেন।
নেপাল দাসের বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের কলাগাছি দাসপাড়া গ্রামে। নেপাল ওই গ্রামের নারায়ণ দাসের ও কানন বালা দাস দম্পতির ছেলে। এক বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে নেপাল মেজো। নেপাল দাসের স্ত্রী অঞ্জনা দাস। তাদের চার বছরের অর্ণব দাস নামের এক ছেলে রয়েছে।