কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৪ ১৯:৪৪ পিএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪ ২০:১০ পিএম
বন্যায় অন্তত ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রবা ফটো
কক্সবাজারের রামুতে বন্যার পানিতে ডুবে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতে দুই যুবক ভেসে গেছেন। এদিকে বন্যায় অন্তত ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের বরাতে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের দেওয়ান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রামু উপজেলার ঈদগড়ে পানিতে ডুবে রাখাইন এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আর গর্জনিয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতে দুই যুবক ভেসে গেছেন।
নিখোঁজরা হলেন, উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্বজুমছড়ি গ্রামের ছৈয়দ হোসেনের ছেলে আমজাদ হোসেন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের ছালেহ আহমদের ছেলে রবিউল আলম।
তবে তাৎক্ষণিক মৃত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি ওসি।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল জব্বার বলেন, ‘আমার পার্শ্ববর্তী ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বজুমছড়ি কবরস্থান সড়ক পার হতে গিয়ে আমজাদ হোসেন পানির স্রোতে ভেসে গেছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়ন থেকেও বাঁকখালী নদীর পানির স্রোতে রবিউল আলম নামের একজন ভেসে যাওয়ার খবর পেয়েছি।’
বন্যায় দুর্ভোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্যার পানিতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বাঁকখালী নদীর ভাঙনে এসব এলাকার বাসিন্দারা হুমকির মুখে পড়েছে। আমার ওয়ার্ডের ২৫০ পরিবার পানিবন্দি। সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কারও চুলায় আগুন জ্বলছে না। আমি যথাসম্ভব খিচুড়ি রান্না করে জনে জনে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ তোফায়েল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কক্সবাজারে ২৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি আকস্মিক তীব্র আকার ধারণ করায় রামুর বিভিন্ন এলাকায় পানি বেড়ে গেছে। অনন্ত ৩০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্ভোগ নিরসনে কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক প্লাবিত হয়েছে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে উখিয়া ও টেকনাফের ১০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পেকুয়ায় দশটি গ্রামের মানুষও পানিবন্দি রয়েছেন বলে জানা গেছে। সেখানে একাধি পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। কক্সবাজারের প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে।