ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৪ ১৬:২৮ পিএম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৪ ১৬:৫৬ পিএম
ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, সিলোনিয়া ও কহুয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক। বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। এতে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জনপদের মানুষ। আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাকবলিতদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর ছয়টি বোট ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তাদের আরও ছয়টি বোট প্রস্তুত আছে। কোস্ট গার্ডও উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টার প্রস্তুত আছে কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেটি অভিযান শুরু করতে পারছে না।
এদিকে এখন পর্যন্ত বন্যায় একজন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা বলছে, এটি স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা। ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এমন বন্যা তারা বিগত ৪০ বছরেও দেখেনি। ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় অনেকে চৌকি উঁচু করে কোনো রকমে, কেউবা ঘরের ছাদে কিংবা টিনের ওপর উঠে রাত কাটিয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ভূঁইয়া বলেন, আমাদের উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। পানি এখনও বাড়ছে।
এ ব্যাপারে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা হাবিব শাপলা বলেন, উপজেলার চিথলিয়া, সলিয়া ও অলকা এলাকায় অনেক মানুষ আটকা পড়েছে। রাত থেকে ফায়ার সার্ভিস ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্ধারকাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী, সেনাবাহিনী, বিজিবি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাধারণ মানুষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গ্রামপুলিশসহ সকলে মিলে উদ্ধারকাজ চলছে।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম কমল বলেন, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। এখনও পানি বাড়ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর আসছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, নদীর পানি বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এত পানি আগে কখনও দেখা যায়নি। পরিস্থিতি খুবই খারাপ।
ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, বন্যাকবলিতদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর ছয়টি বোট ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তাদের আরও ছয়টি বোট এবং কোস্ট গার্ড বাহিনী উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে।