কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ২০:১১ পিএম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪ ২০:৫০ পিএম
মঙ্গলবার দুপুরে তানভীরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য কল্যাণ সংস্থার সদস্যরা। প্রবা ফটো
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা এলাকার বাদশাহ মিয়া। ২০১৩ সালে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তার বসতভিটা উচ্ছেদ করে দখল করে নিয়েছিলেন। এরপর থেকে শ্বশুর বাড়িতে একটি কুঁড়ে ঘরে স্বপরিবারে থাকেন তিনি। তার ৩ সন্তান ও স্ত্রীসহ পাঁচজনের সংসার কোন মতেই চলছিল।
গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত বাদশাহ মিয়ার বড় ছেলে তানভীর সিদ্দিকী। তানভীর পাঁচলাইশ আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো। ছেলেকে হারানোর পর থেকে দিশেহারা হয়ে কাটছে তার সংসার।
এমন পরিস্থিতিতে বাদশাহ মিয়ার পরিবারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য কল্যাণ সংস্থা।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তানভীরের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে নতুন একটি ঘরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সংস্থাটির সদস্যরা। যেখানে সহযোগিতা করছেন আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকরাও। আর সেই ঘরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বীর নিবাস’।
বীর নিবাসের ভিত্তি স্তর স্থাপনকালে নৌ বাহিনী অবসরপ্রাপ্ত সদস্য কল্যাণ সংস্থার মহাসচিব ক্যাপ্টেন মহসীনুল হাবিব জানান, দেশের জন্যই প্রাণ দিয়েছে তানভীর। এই বীর শহীদ পরিবারের সঙ্গে থাকবেন তারা। করবেন সকল প্রকার সহযোগিতা।
আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, এই ছাত্র দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। আমরা তার পরিবারের পাশে থাকবো।
এর আগে দুপুরে একে একে তানভীর সিদ্দিকীর কবর জেয়ারত করেন বাংলাদেশ নৌ বাহিনী অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রধান শিক্ষক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের পক্ষ থেকে তার কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক তালাত মাহমুদ খান রাফি জানিয়েছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তানভীর সিদ্দিকীসহ যারাই শহীদ হয়েছেন তাদের বিনিময়ে দেশের মানুষ আরেকবার স্বাধীনতা পেয়েছেন। তাদের যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছেন প্রত্যেকের বিচার হবে।
আলাপকালে তানভীরের পিতা বাদশাহ মিয়া ও চাচা আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, তাদের আশা ছিলো তানভীর বড় হয়ে ভালো একটা চাকরি করবেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ না হওয়ায় তার দ্বিতীয় ছেলে ইশতাকুল ইসলাম তাসিবকে একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাদশাহ মিয়া। পাশাপাশি একটি ঘর করে উদ্যোগ নিয়ে পাশে থাকায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে ছাত্রদের দাবির মুখে ইতোমধ্যে মহেশখালী-বদরখালী সংযোগ সেতু 'শহীদ তানভীর'' সেতু নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহেশখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন।